পাইলটদের বাঁচাতে হরমুজ়ে নামল আমেরিকার নয়া ‘অবতার’

হরমুজ় প্রণালীতে মার্কিন সেনার একটি অ্যাপাচে হেলিকপ্টার ভেঙে পড়ার ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সোমবারের এই দুর্ঘটনার পর পাইলটদের উদ্ধারে প্রথাগত কোনো সামরিক অভিযান বা উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার পাঠায়নি ওয়াশিংটন। পরিবর্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্বারা পরিচালিত স্বয়ংক্রিয় সামুদ্রিক ড্রোন ব্যবহার করে পাইলটদের উদ্ধার করেছে মার্কিন বাহিনী। সামরিক ইতিহাসে এই প্রথম কোনো উদ্ধারকাজে এমন ড্রোনবোটের সফল ব্যবহার দেখা গেল।
উদ্ধারে প্রযুক্তির অভাবনীয় ব্যবহার
উদ্ধারকারী হিসেবে কাজ করা এই ড্রোনটি হলো ২৪ ফুটের ‘সারোনিক কর্সেয়ার’। টেক্সাসভিত্তিক সারোনিক টেকনোলজিস নির্মিত এই ভেসেলগুলো ঘণ্টায় প্রায় ১৪০ কিলোমিটার গতিতে জলপথ পাড়ি দিতে সক্ষম। সাড়ে ৪০০ কেজি ওজন বহনে সক্ষম এই ড্রোনবোটটি মূলত মার্কিন নৌবাহিনীর ‘টাস্কফোর্স ৫৯’-এর অধীনে পরিচালিত। বাহরিনে অবস্থিত এই বিশেষ শাখাটি মানববিহীন সামরিক অস্ত্র পরিচালনায় দক্ষ এবং সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম এশিয়ায় এ ধরনের প্রচুর ড্রোন মোতায়েন করেছে আমেরিকা।
সংঘাতের আবহে উত্তপ্ত হরমুজ়
পশ্চিম এশিয়ায় ইরান ও আমেরিকার মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনার পারদ চড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে হরমুজ় প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ তুঙ্গে। কপ্টার দুর্ঘটনার পর ইরান এই ঘটনায় জড়িত থাকার সম্ভাবনা নাকচ করলেও, মার্কিন কপ্টারটির পতনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা। বিশ্লেষকদের মতে, এই সামুদ্রিক ড্রোনের সফল ব্যবহার কেবল পাইলটদের জীবনই বাঁচায়নি, বরং যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ধারকাজের একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এর ফলে ভবিষ্যতে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় মানুষ বা সাধারণ হেলিকপ্টার না পাঠিয়েও ঝুঁকিপূর্ণ মিশন পরিচালনা করা আমেরিকার জন্য অনেক সহজ হবে।