মার্কিন হামলায় ইরানে ভয়াবহ জলসংকট, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে যুদ্ধের উত্তাপ

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর দাবি যতই করা হোক না কেন, সাম্প্রতিক এক সংঘাতে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনার পারদ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। মার্কিন হেলিকপ্টার ধ্বংসের জেরে মঙ্গলবার রাত থেকেই ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ঘাঁটিতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে মার্কিন সেনা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশেই এই আত্মরক্ষামূলক অভিযান চালানো হয়েছে বলে সেন্ট্রাল কমান্ডের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে।
পানীয় জলের ট্যাঙ্কে হামলা ও মানবিক সংকট
মার্কিন হামলায় উপকূলীয় শহর সিরিকের বামানি জেলায় অন্তত দুটি পানীয় জলের ট্যাঙ্ক সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। এর জেরে গোটা শহরে সুপেয় জল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। কোহেস্তাক, মিনাব এবং বন্দর আব্বাসের মতো উপকূলীয় অঞ্চলেও আঘাত হেনেছে মার্কিন বাহিনী। পানীয় জলের অভাবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র হাহাকার পড়ে গিয়েছে। জল সংকটে ফেলে সাধারণ মানুষকে শুকিয়ে মারার কৌশল নিয়েছে ওয়াশিংটন, এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। খাবার জলের মতো মৌলিক অধিকার থেকে নাগরিকদের বঞ্চিত করার এই ঘটনাকে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে ভারতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস।
ইরানের পাল্টা আক্রমণ ও আঞ্চলিক অস্থিরতা
আমেরিকার এই আগ্রাসনের জবাবে পিছু হটেনি তেহরান। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে। বাহরিনে অবস্থিত মার্কিন নৌবহরকে লক্ষ্য করে একের পর এক ড্রোন আছড়ে ফেলে তারা। পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালীর কাছে আমেরিকার একটি এমকিউ-৯ ড্রোনও ভূপাতিত করেছে ইরান। আইআরজিসির স্পষ্ট বার্তা, শত্রু পক্ষের যেকোনো হামলার জবাব দিতে তারা প্রস্তুত এবং যুদ্ধ এখনও জারি রয়েছে।
মার্কিন হেলিকপ্টার বা ড্রোন ধ্বংসের প্রতিশোধ হিসেবেই আমেরিকা এই আক্রমণ চালিয়েছে, যা পরবর্তীতে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এই সংঘাতে পানীয় জলের মতো নাগরিক কাঠামো ধ্বংস হওয়ার ফলে একদিকে যেমন ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে, তেমনি হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে অস্থিরতা সৃষ্টির ফলে বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।