রাতের ঘুম উধাও, সকালে ব্যায়ামের সময় নেই! দায়ী কি শুধুই আপনার মুঠোফোন?

রাতের ঘুম উধাও, সকালে ব্যায়ামের সময় নেই! দায়ী কি শুধুই আপনার মুঠোফোন?

দিনের পর দিন রাতের বেলা চোখের পাতা এক হতে চাইছে না। অথচ পরদিন সকালে ঘুম ভাঙছে চরম ক্লান্তি আর অবসাদ নিয়ে। শরীর ও মনের এই নিস্তেজ অবস্থার কারণে দিনের অন্যান্য কাজকর্মেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে সকালে উঠে ব্যায়াম করার মতো শক্তি বা সময় কোনোটিই যেন অবশিষ্ট থাকছে না। ফলে তৈরি হচ্ছে অনিদ্রা এবং ব্যায়াম না করার এক অনন্ত চক্র, যা থেকে বেরিয়ে আসা সাধারণ মানুষের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে।

ডুমস্ক্রোলিং কীভাবে কেড়ে নিচ্ছে ঘুম ও কর্মশক্তি

মনোবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, এই সমস্যার মূলে রয়েছে অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারের অভ্যাস বা ডুমস্ক্রোলিং। সারাদিনের ব্যস্ততার পর রাতের অবসরটুকু সোশ্যাল মিডিয়ার রঙিন দুনিয়ায় কাটিয়ে দিতে গিয়ে সময়ের হিসেব থাকে না। গভীর রাত পর্যন্ত একটানা ফোন ঘাঁটার ফলে শরীরের স্বাভাবিক ঘুমের চক্র বা সার্কেডিয়ান রিদম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এই ডিজিটাল আসক্তি এতটাই প্রবল হয়ে ওঠে যে, সকালে ঘুম থেকে চোখ খুলেই সবার আগে ফোনের দিকে হাত চলে যায়। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক অবসাদ, শারীরিক দুর্বলতা এবং কর্মক্ষমতা হ্রাসের মতো গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে মানবজীবনে।

অনিদ্রার দুষ্টচক্র থেকে মুক্তির উপায়

এই ক্লান্তি ও অনিদ্রার হাত থেকে বাঁচতে ওষুধের চেয়ে অভ্যাসের পরিবর্তন বেশি জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের পরামর্শ, রাতের বেলা ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত কিছুটা সময় আগে সোশ্যাল মিডিয়া বা স্ক্রিন থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে। বিছানায় ফোনের নীল আলোর সংস্পর্শে না গিয়ে সাধারণ বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং সকালে সময় দেখার জন্য ফোনের পরিবর্তে ঘড়ি ব্যবহার করা প্রয়োজন। শারীরিক ও মানসিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে দিনে অন্তত আধ ঘণ্টা ব্যায়ামের জন্য সময় বের করা উচিত। একমাত্র সচেতনতা ও ডিজিটাল আসক্তি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেই এই ক্লান্তিকর পরিস্থিতির অবসান ঘটানো সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *