আলিপুরে ইভিএম রাখা অফিসে রহস্যজনক আগুন, নেপথ্যে কি গভীর ষড়যন্ত্র?

ভোট কেন্দ্রের ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম (EVM) রাখা ভবনে আগুন লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার রাতে আলিপুরে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের বহুতল ভবনে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনা নিছক দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে কোনো নাশকতার ছক রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে ভবনের একটি নির্দিষ্ট ফ্লোরে আগুন লাগার পর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা সত্ত্বেও ওপরের তলাগুলোতে কীভাবে আগুন ছড়াল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর সময়ক্রম ও অসঙ্গতি
গত বুধবার রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের চারতলা থেকে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ওই ফ্লোরে একটি কনফারেন্স রুম রয়েছে যা সেই সময় বন্ধ ছিল। খবর পেয়ে দমকল কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত ১১টা বেজে ৫০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। অগ্নিকাণ্ডের শুরুতেই পুরো ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। কিন্তু এরপর রাত সাড়ে বারোটা নাগাদ আশ্চর্যজনকভাবে ভবনের নয় এবং দশতলায় ফের আগুন জ্বলতে দেখা যায়। দমকলের পরিভাষায় এটিকে ‘আনইউজুয়াল ফায়ার’ বা অস্বাভাবিক আগুন বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। দমকল সূত্রে জানা গেছে, চারতলার আগুন কীভাবে মাঝের ৬, ৭ ও ৮ তলাকে কোনো ক্ষতি না করে সরাসরি ৯ ও ১০ তলায় ছড়াল, তার কোনো ‘ট্রাভেল রুট’ বা যাতায়াতের পথ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
নথি বা তথ্য নষ্টের আশঙ্কা ও রাজনৈতিক তরজা
ভবনের দশতলায় আলিপুর সদরের স্ট্রং রুম রয়েছে, যেখানে কসবা, যাদবপুর, বেহালা পূর্ব, বেহালা পশ্চিম, মেটিয়াবুরুজ এবং টালিগঞ্জ কেন্দ্রের ভোটযন্ত্র বা ইভিএম সংরক্ষিত ছিল। এছাড়া ন’তলায় মিড ডে মিল সেকশন রয়েছে। এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বড় কোনো ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছে ওয়াকিবহাল মহল। জেলা পরিষদের এই অফিসেই কাজ করতেন জাহাঙ্গির খান, যিনি বর্তমানে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এর হেফাজতে রয়েছেন। এই ঘটনার পর বিরোধীরা তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে। বিজেপি নেতা রাকেশ সিং বিস্ফোরক অভিযোগ করে বলেছেন, নিজেদের পাপ ঢাকতেই এই ধরনের কাজ করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই এই আগুন লাগানো হতে পারে। বর্তমানে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং কীভাবে এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটল তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিক ও দমকল বিশেষজ্ঞরা।