সন্ধ্যার এক ফোনেই ছন্দপতন! অভিষেকের মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

আইন ময়দানে বড়সড় ধাক্কা খেলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার সন্ধ্যায় একটি ফোন কলের জেরে তাঁর এবং দলের সমস্ত মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সই কাণ্ড সহ কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় এতদিন তিনিই অভিষেকের হয়ে আইনি লড়াই চালাচ্ছিলেন।
হঠাৎ কেন এই সিদ্ধান্ত?
সূত্রের খবর, বুধবার সন্ধ্যার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফ থেকে একটি ফোন আসে। সেই কথোপকথনে অন্য এক আইনজীবীকে মামলার দায়িত্বে আনার বিষয়ে জানানো হয় এবং আদালতের শুনানিতে নতুন আইনজীবীকে দাঁড় করানো হয়। এই ঘটনায় তীব্র অভিমান ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে কলকাতা হাইকোর্ট ও সর্বোচ্চ আদালতে ওকালতি করা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই তিনি জানিয়ে দেন, অভিষেক বা তৃণমূল সংক্রান্ত কোনো মামলাতেই তিনি আর সওয়াল করবেন না। এমনকি, এই বিষয়ে পরামর্শদাতা হিসেবেও তিনি আর কোনো ভূমিকা পালন করবেন না। তাঁর পুত্র শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই মামলাগুলি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন।
রাজনীতি ও আইনি মহলে বড় প্রভাব
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো একজন শীর্ষ স্থানীয় আইনজীবীর এইভাবে সব মামলা থেকে সরে আসা তৃণমূলের কাছে একটি বড় আইনি ও রাজনৈতিক সংকট হিসেবে দেখা দিচ্ছে। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা এবং সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম থেকে শুরু করে রিজওয়ানুর রহমান মৃত্যু মামলার মতো একাধিক হাই-প্রোফাইল ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল মামলা দক্ষতার সঙ্গে সামলেছেন। সাম্প্রতিককালে এসআইআর এবং সই কাণ্ডের মতো জটিল আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁর উপস্থিতি ছিল বড় ভরসার জায়গা। এই পরিস্থিতিতে আইনি লড়াইয়ের মাঝপথে তাঁর সরে যাওয়া অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আদালতে এক অস্বস্তিকর ও একা পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়ে দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।