নামের জাঁতাকলে স্বপ্নভঙ্গ! এক রেস্তোরাঁর নাম বদলাতে গুনতে হলো পনেরো লক্ষ টাকা

নামের জাঁতাকলে স্বপ্নভঙ্গ! এক রেস্তোরাঁর নাম বদলাতে গুনতে হলো পনেরো লক্ষ টাকা

কলেজ জীবন থেকে জমানো টাকা আর স্বপ্নের মিশেলে তৈরি হয়েছিল দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ ‘নবান্ন’। ভোজনরসিকদের কাছে দ্রুত পরিচিতি পাওয়া এই প্রতিষ্ঠানের নামই যে একসময় মালিক সুপ্রিয় গঙ্গোপাধ্যায়ের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে, তা ছিল কল্পনাতীত। ২০০৯ সালে নিজের রেস্তোরাঁর জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেডমার্ক করিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সরকারি প্রশাসনিক সচিবালয়ের নাম ‘নবান্ন’ ঘোষিত হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় বিড়ম্বনা।

সরকারি ফরমান ও আর্থিক বিপর্যয়

২০১৬ সালের ২৮ জুলাই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দুর্গাপুর পুরসভায় একটি চিঠি পাঠানো হয়। নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, ‘নবান্ন’ বা ‘উত্তরকন্যা’ নাম কোনো ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে না। সরকারি নির্দেশ মেনে বাধ্য হয়েই প্রিয় রেস্তোরাঁর নাম পরিবর্তন করে সুপ্রিয় রাখতে বাধ্য হন ‘পার্বণ’। নাম বদলের এই প্রক্রিয়ায় তাঁকে গুনতে হয়েছে প্রায় পনেরো লক্ষ টাকার খেসারত। রেস্তোরাঁর নাম খোদাই করা দামি বাসনপত্র, ক্রকারি থেকে শুরু করে কর্মীদের পোশাক—সবই রাতারাতি বদলে ফেলতে হয়েছিল তাঁকে।

আবেগ ও বাস্তবতার দ্বন্দ্ব

তৎকালীন সরকারের এই সিদ্ধান্তে কোনো আইনি লড়াইয়ে না গেলেও, ব্যবসায়ীর ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক জীবনে এর প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী। সুপ্রিয় গঙ্গোপাধ্যায়ের কথায়, নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করা ব্যবসাকে এক ধাক্কায় এভাবে বদলে ফেলা ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক। দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণে তৈরি এই প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের মানসিক যন্ত্রণা আর বিপুল আর্থিক ক্ষতির বোঝা আজও তাঁকে তাড়িয়ে বেড়ায়। প্রশাসনিক নির্দেশনার কারণে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব সংকটে পড়ার এই ঘটনা স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলেও বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *