রক্ষাকবচ পেয়েও নিস্তার নেই অরূপের! সুপ্রিম কোর্টের পথে শতদ্রু

সল্টলেক স্টেডিয়ামে লিয়োনেল মেসির ইভেন্ট ঘিরে বিশৃঙ্খলা এবং পরবর্তীতে জলঘোলার ঘটনায় আইনি লড়াই নতুন মাত্রা নিল। মেসি-কাণ্ডে রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে আপাতত গ্রেপ্তার করা যাবে না বলে কলকাতা হাই কোর্ট নির্দেশ দিলেও, এই রায়ে একেবারেই সন্তুষ্ট নন অনুষ্ঠানের অন্যতম উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। হাই কোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের এই রক্ষাকবচকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চতর আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সাময়িক স্বস্তি পেলেও বেশ কিছু কড়া শর্ত মানতে হবে অরূপ বিশ্বাসকে। আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি রাজ্য ছাড়তে পারবেন না এবং নিম্ন আদালতে তাঁকে পাসপোর্ট জমা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, যুবভারতীতে ভিড়ের মাঝে মেসির এত কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার ঘটনায় প্রাক্তন মন্ত্রীকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনাও করেছে আদালত। তবে রক্ষাকবচের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় শতদ্রু দত্ত আইনি লড়াই আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ডিভিশন বেঞ্চ থেকে সুপ্রিম কোর্টের পথ
শতদ্রু দত্ত অভিযোগ তুলেছেন, অতীতে তাঁকে যখন গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তখন ‘প্রভাবশালী’ তকমা দিয়ে তাঁর জামিনের আবেদন পরপর পাঁচবার খারিজ করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, অরূপ বিশ্বাস একজন পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ এবং তদন্ত প্রভাবিত করার মতো ক্ষমতা তাঁর অনেক বেশি। এই যুক্তিতেই সিঙ্গল বেঞ্চের রক্ষাকবচকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি ডিভিশন বেঞ্চে যাচ্ছেন। প্রয়োজনে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত নিয়ে যেতেও তিনি প্রস্তুত। একইসঙ্গে, অরূপ বিশ্বাসের পরপর পুলিশি তলব এড়িয়ে যাওয়ার ঘটনাকেও তীব্র কটাক্ষ করেছেন এই উদ্যোক্তা।
ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
মূলত যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসিকে ঘিরে অব্যবস্থাপনা ও চরম বিশৃঙ্খলার কারণেই এই আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার সূত্রপাত। এই ঘটনার জেরে ইতোমধ্যে অরূপ বিশ্বাসের পদত্যাগ এবং সিট (SIT) গঠনের মাধ্যমে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রাক্তন মন্ত্রী সাময়িক স্বস্তি পেলেও, শতদ্রু দত্তের মতো উদ্যোক্তাদের অনড় অবস্থান এবং উচ্চ আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি মামলাটিকে এক নতুন মোড় দিয়েছে। এর ফলে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়টি আগামী দিনে আরও জোরালো হবে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।