সই জাল কাণ্ডে বড় আইনি ধাক্কা, আজই সিআইডি তলব অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে

বিধানসভায় বিধায়কদের সই জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর মামলায় বড়সড় আইনি বিপর্যয়ের মুখে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যেই সিআইডি ভবনে তদন্তকারীদের মুখোমুখি হতে হবে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে। দীর্ঘ সময় ধরে এই মামলায় একাধিক নোটিস পাঠানো সত্ত্বেও তিনি হাজিরা এড়িয়ে যাওয়ায় তদন্ত প্রক্রিয়া থমকে ছিল। সিআইডি আধিকারিকদের প্রাথমিক অনুমান, এই সই জাল কাণ্ডের নেপথ্যে মূল চক্রী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই।
তদন্তে সহযোগিতা ও সুরক্ষাকবচ
আদালত একদিকে যেমন দ্রুত হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, অন্যদিকে তৃণমূল সাংসদকে একটি নির্দিষ্ট আইনি রক্ষাকবচও প্রদান করেছে। বিচারপতি জানিয়েছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করলে আগামী ২১ দিন তাঁর বিরুদ্ধে সিআইডি কোনো শাস্তিমূলক বা চরম পদক্ষেপ নিতে পারবে না। আদালতের এই নির্দেশনার পরই অভিষেকের আইনি দল জানিয়েছে, বিকেল ৪টায় দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরে তিনি বিমানবন্দর থেকে সরাসরি সিআইডি দপ্তরে পৌঁছবেন। অন্যদিকে, সিআইডি তদন্তের খাতিরে তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানিয়ে রেখেছে।
মামলার প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক প্রভাব
তৃণমূলের অন্দরে বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করার প্রস্তাবিত রেজুলিউশনে দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার সই জাল করার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার পরই তাঁদের বহিষ্কার করা হলেও, বিধানসভা সচিবালয়ের মাধ্যমে দায়ের হওয়া এফআইআর থেকে গড়াতে থাকে আইনি জল। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিবের নির্দেশে মামলার তদন্তভার সিআইডির হাতে আসার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তাপ ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার অভিষেকের অফিসে সিআইডির আকস্মিক তল্লাশি এবং পরবর্তীতে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ঘটনা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আজ সন্ধ্যায় জিজ্ঞাসাবাদের পর কোন নতুন তথ্য প্রকাশ্যে আসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।