হাজার বিতর্কের মাঝেও ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় মার্কিন বিশ্বকাপ!

মার্কিন মুলুকে আয়োজিত ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে বিতর্ক। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকেই ভিসা জটিলতা, আমেরিকা-ইরান টানাপোড়েন এবং ফুটবলারদের সঙ্গে নিরাপত্তার নামে অসদাচরণের মতো একের পর এক অনভিপ্রেত ঘটনা সামনে এসেছে। এমনকি লিওনেল মেসির মতো মহাতারকার পাসপোর্টের তথ্য ফাঁসের ঘটনাও টুর্নামেন্টের ব্যবস্থাপনা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করেছে। বিভিন্ন দেশের ফুটবল দল ও কর্মকর্তাদের ভিসা পেতে বিলম্ব এবং নিরাপত্তার অতি-কড়াকড়ি এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে।
বিতর্কের কেন্দ্রে কড়া নিরাপত্তা ও ভিসা জটিলতা
মূলত মার্কিন প্রশাসনের অতি-সুরক্ষা নীতির কারণেই এই ধরনের অব্যবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, নিরাপত্তার বিষয়টিকেই তারা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন এবং শুধুমাত্র সঠিক মানুষকেই দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। তবে এর নেতিবাচক প্রভাব হিসেবে বহু অংশগ্রহণকারী ওল ফুটবলারদেরও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে, যা বৈশ্বিক এই ক্রীড়াযজ্ঞের সূচনায় কিছুটা হলেও ছন্দপতন ঘটিয়েছে।
রেকর্ড টিকিট বিক্রি ও ফিফার অকুণ্ঠ সমর্থন
এতসব বিতর্কের পরও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো টুর্নামেন্টের সাফল্য নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইতিহাসের সবচেয়ে সফল বিশ্বকাপ হতে চলেছে এটি। ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোও অকপটে স্বীকার করেছেন যে ট্রাম্পের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ও আন্তরিক উদ্যোগ ছাড়া মার্কিন মাটিতে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করা সম্ভব হতো না। ট্রাম্পের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অতীতের যেকোনো আসরের তুলনায় এবার রেকর্ড সংখ্যক টিকিট বিক্রি হয়েছে, যা আয়োজকদের মনোবল বাড়িয়ে দিয়েছে।
আপাতদৃষ্টিতে প্রশাসনিক কড়াকড়ি ও অব্যবস্থা কিছু কূটনৈতিক ও লজিস্টিক সংকটের জন্ম দিলেও, রেকর্ড টিকিট বিক্রির পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে মাঠের বাইরের বিতর্ক ছাপিয়ে দর্শকদের আগ্রহ তুঙ্গে রয়েছে। ভিসা নীতির জটিলতায় কিছু দেশের প্রতিনিধিদের সাময়িক ভোগান্তি পোহাতে হলেও, বাণিজ্যিক ও দর্শক সমাগমের দিক থেকে এটি অনন্য নজির স্থাপন করতে পারে।