ডায়মন্ড হারবারে সেবাশ্রয়ের কোটি টাকার ওষুধ উদ্ধার, নেপথ্যে বড় দুর্নীতি?

ডায়মন্ড হারবার মডেলের ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্প নিয়ে নতুন করে বড়সড় বিতর্ক দানা বেঁধেছে। ডায়মন্ড হারবারের সরিষার হিঞ্চাবেড়িয়া এলাকায় মাটি খুঁড়ে সেবাশ্রয়ের লোগো লাগানো কয়েক কোটি টাকার ওষুধ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সাধারণ মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়ার এই উদ্যোগের স্বচ্ছতা এবং কার্যকারিতা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
মাটি খুঁড়ে ওষুধ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য
বুধবার সরিষার হিঞ্চাবেড়িয়ায় জেসিবি মেশিন দিয়ে মাটি খুঁড়ে বিপুল পরিমাণ ওষুধ উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, উদ্ধার হওয়া ওষুধগুলির বাজারমূল্য কোটি টাকারও বেশি। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার অজুহাতে এই বিপুল পরিমাণ জীবনদায়ী ওষুধ মাটির নিচে পুঁতে ফেলা হয়েছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে চালু হওয়া এই প্রকল্পের ওষুধ কীভাবে মাটির নিচে গেল, তা নিয়ে জনমনে গভীর বিস্ময় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
রাজনৈতিক তরজা ও তদন্তের দাবি
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিজেপির সরাসরি অভিযোগ, সেবাশ্রয় শিবিরের নামে আসা প্রচুর ওষুধ নিয়মবহির্ভূতভাবে চুরি করা হয়েছিল এবং নিজেদের দুর্নীতি ঢাকতেই তড়িঘড়ি সেগুলি মাটির নিচে চাপা দেওয়া হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। শাসকদলের দাবি, ওষুধগুলির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ায় সেগুলি প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নষ্ট করার প্রক্রিয়া চলছিল।
ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ওষুধগুলি আদৌ মেয়াদ উত্তীর্ণ ছিল কি না এবং কেন সেগুলিকে এভাবে মাটিতে পুঁতে ফেলা হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনার জেরে ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ার পাশাপাশি আগামী দিনে এর রাজনৈতিক প্রভাব পড়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।