‘আমরাই আসল তৃণমূল, সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন’, কাকলির মন্তব্যে মহাবিস্ফোরণ

‘আমরাই আসল তৃণমূল, সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন’, কাকলির মন্তব্যে মহাবিস্ফোরণ

কলকাতা: এ যেন মহারাষ্ট্রের শিবসেনা ভাঙনের ছায়া বাংলায়! লোকসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর এবার তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে শুরু হলো চরম গৃহযুদ্ধ। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে খোদ দলটাই কি এবার ছিনিয়ে নিতে চলেছেন বিক্ষুব্ধ সাংসদরা? বারাসাতের বিদায়ী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের বিস্ফোরক মন্তব্যে এই মুহূর্তে তোলপাড় রাজ্য তথা দেশের রাজনীতি। সাফ জানিয়ে দিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন, তাঁরাই হলেন ‘আসল তৃণমূল’!

আজ, বৃহস্পতিবার এক নজিরবিহীন দাবি করে কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানান, তাঁদের পক্ষে লোকসভার ২০ জন সাংসদ রয়েছেন। সংখ্যার জোরে তাঁরাই প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস। তবে প্রতীক ও দলের আসল রাশ কার হাতে থাকবে, তা শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনই ঠিক করবে। দল ভাঙার এই মেগা নাটকের মাঝেই কাকলি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁদের এই বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী কেন্দ্রের এনডিএ (NDA) জোটের পাশেই দাঁড়াবে।

রাজনৈতিক মহলকে আরও চমকে দিয়ে কাকলিদেবী দাবি করেছেন, এই বিদ্রোহ ভোটের ফলের পর হঠাৎ করে হয়নি। গত ২ বছর ধরে তলে তলে এই ছক কষা হচ্ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দীর্ঘ ৪০ বছরের সম্পর্ক থাকলেও, রাজনৈতিক লাইনের ভিন্নতার কারণেই আজ এই চূড়ান্ত পদক্ষেপ।

তবে দলের এই ভাঙনে তাঁদের সঙ্গে থাকছেন না শ্রীরামপুরের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কাকলি সাফ জানান, কল্যাণের বিরুদ্ধে তিনি ইতিমধ্যেই অভিযোগ দায়ের করেছেন, তাই তাঁর সঙ্গে যাওয়ার কোনো প্রশ্নই নেই। অন্যদিকে, রাজ্যে বিরোধী শিবিরের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি।

মহারাষ্ট্রে যেভাবে উদ্ধব ঠাকরেকে সরিয়ে একনাথ শিন্ডে গোষ্ঠী আসল ‘শিবসেনা’র স্বীকৃতি ও ‘ধনুক-বাণ’ প্রতীক ছিনিয়ে নিয়েছিল, ঠিক সেই পথেই কি এবার হাঁটতে চলেছে বাংলার রাজনীতি? মমতার হাত থেকে ‘জোড়াফুল’ প্রতীক আর দল কি চলে যাবে কাকলিদের কবজায়? এখন নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *