রাতারাতি সুর বদল ট্রাম্পের, ইরানে হামলা হচ্ছে না!

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার দ্বন্দ্বে যেন নাটকের শেষ নেই। বিশ্ব যখন দুই দেশের যুদ্ধের ভয়াবহতার আশঙ্কায় দিন গুনছে, ঠিক তখনই এক অভাবনীয় মোড় নিল পরিস্থিতি। ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই সুর বদলে ফেললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আপাতত তেহরানের ওপর কোনো ধরনের হামলা বা বোমাবর্ষণ করা হচ্ছে না, বরং খুব শীঘ্রই দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।
ট্রাম্পের দাবি ও আমেরিকার কৌশল
হোয়াইট হাউসে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ট্রাম্প দাবি করেন, যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ৬০ দিনের আলোচনার প্রস্তাবে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে তেহরান। তাঁর ধারণা, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজ়তবা খামেনেই এই প্রস্তাবে রাজি হয়েছেন। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য এই সমঝোতা প্রক্রিয়ার সঙ্গে আমেরিকা, ইজরায়েল, সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কসহ একাধিক দেশ যুক্ত রয়েছে। তবে চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত এবং ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না বলে প্রতিশ্রুতি না দিলে হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন বাহিনীর কড়া নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
ইরানের প্রতিক্রিয়া এবং সম্ভাব্য প্রভাব
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাত ও হামলা-পাল্টা হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে তীব্র ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই দাবির পরপরই ইরানের পক্ষ থেকে তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করা হয়নি। তেহরানের সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, আমেরিকার সঙ্গে প্রাথমিক সমঝোতার কোনো খসড়া এখনও অনুমোদিত হয়নি। অতীতেও ট্রাম্প এমন বহু ঘোষণা দিয়ে কথা রাখেননি বলে দাবি তাদের। বিশ্লেষকদের মতে, শেষ পর্যন্ত যদি এই ৬০ দিনের আলোচনা সফল হয় এবং চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা থামিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্বস্তি ফেরাতে পারে। তবে তেহরান যদি শেষ পর্যন্ত চুক্তি থেকে পিছু হটে, তবে তা এই অঞ্চলকে আরও ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।