ঝাড়খণ্ডকে দেশের ম্যানুফ্যাকচারিং হাব বানাতে নীতি আয়োগের বৈঠকে বড় দাবি হেমন্ত সোরেনের!

ঝাড়খণ্ডকে দেশের ম্যানুফ্যাকচারিং হাব বানাতে নীতি আয়োগের বৈঠকে বড় দাবি হেমন্ত সোরেনের!

নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে আয়োজিত নীতি আয়োগের ১১তম গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার আহ্বানে সাড়া দিলেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। খনিজসমৃদ্ধ ঝাড়খণ্ডকে কেবল কাঁচামাল সরবরাহকারী রাজ্য হিসেবে না দেখে, সেটিকে দেশের অন্যতম প্রধান ‘ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন তিনি। এই লক্ষ্যপূরণে এবং ঝাড়খণ্ডের সামগ্রিক উন্নয়নের স্বপ্নপূরণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে আরও বেশি আর্থিক ও নীতিগত সহযোগিতার আর্জি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

শিল্প ও মানবসম্পদ উন্নয়নের নতুন রূপরেখা

বৈঠকে সুসংহত উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ঝাড়খণ্ডের সমৃদ্ধ খনিজ সম্পদ তখনই প্রকৃত অর্থবহ হবে যখন তা স্থানীয় মানবসম্পদের কর্মসংস্থানে ব্যবহৃত হবে। সম্পদের সদ্ব্যবহার রাজ্যের ভেতরেই করার লক্ষ্যে বয়নশিল্প, ইলেকট্রনিক্স, দূষণহীন শক্তি, লজিস্টিকস এবং কৃষি-খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ খাতে বড় আকারের বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া দিতে কৃত্রিম মেধা (এআই) ভিত্তিক খনিজ অনুসন্ধান এবং সুস্থিত খনন পদ্ধতির কাজ ইতিমধ্যেই রাজ্যে শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ‘সারথী’ প্রকল্পের মাধ্যমে যুবকদের নতুন প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলা এবং নারীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে ঝাড়খণ্ডকে শিল্প ও কর্মসংস্থানের নতুন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

বকেয়া পাওনা মেটানো ও অবকাঠামো সংস্কারের দাবি

রাজ্যের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বুনিয়াদ মজবুত করতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে একাধিক প্রস্তাব পেশ করেছেন হেমন্ত সোরেন। ঝাড়খণ্ডে এনসিইআরটি-র একটি আঞ্চলিক কেন্দ্র এবং একটি ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের আর্জি জানানো হয়েছে। এছাড়া অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলোর নিজস্ব ভবন নির্মাণ এবং স্বাস্থ্য খাতের প্রসারে কেন্দ্রের সময়োপযোগী তথ্য আদান-প্রদান ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করা হয়েছে। তবে এই সামগ্রিক উন্নয়নযাত্রাকে গতিশীল করতে ঝাড়খণ্ডের বকেয়া পাওনা পরিশোধের বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়। কেন্দ্রের কাছে ‘জল জীবন মিশন’-এর বকেয়া ৬,০০০ কোটি টাকা এবং কয়লা কো ম্পা নিগুলোর কাছ থেকে ১.৩৬ লক্ষ কোটি টাকার বকেয়া দ্রুত মেটানোর দাবি জানান মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে ‘ডিস্ট্রিক্ট মিনারেল ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট’-এর নিয়মাবলী সংশোধন ও ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রের এই সহযোগিতা ও বকেয়া অর্থ সময়মতো ছাড় করা হলে তা ঝাড়খণ্ডের শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করবে। এর ফলে স্থানীয় স্তরে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সার্বিক সূচকেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার জাতীয় লক্ষ্যে ঝাড়খণ্ডকে একটি সক্রিয় অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *