চাকরিপ্রার্থীদের ডিম-বোমা ও গণবিক্ষোভের মুখে তৃণমূল নেতা, মুচলেকা লিখে দায় চাপালেন শান্তনুর ঘাড়ে!

চাকরিপ্রার্থীদের ডিম-বোমা ও গণবিক্ষোভের মুখে তৃণমূল নেতা, মুচলেকা লিখে দায় চাপালেন শান্তনুর ঘাড়ে!

राज्य রাজনীতিতে নিয়োগ দুর্নীতির ছায়া এবার আরও প্রকট হলো হুগলির আরামবাগে। শিক্ষকসহ সরকারি নানা পদে চাকরি দেওয়ার নামে কোটি কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগে ব্যাপক গণবিক্ষোভের মুখে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতি গুণধর খাঁড়া। ক্ষুব্ধ জনতার ডিম-বর্ষণ এবং ‘চোর-চোর’ স্লোগানের মাঝে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে শেষ পর্যন্ত মুচলেকা দিতে বাধ্য হন তিনি। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় বিস্ফোরক দাবি করেন এই তৃণমূল নেতা। তাঁর দাবি, সমস্ত টাকা শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত ও বহিষ্কৃত যুব তৃণমূল নেতা শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেওয়া হয়েছিল।

চাকরির নামে কোটি টাকার প্রতারণা ও গণআন্দোলন

ঘটনার সূত্রপাত আরামবাগের সালেপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের পাঁচমাইল এলাকায়। অভিযোগ, ২০১৬ এবং ২০১৭ সালে বিভিন্ন সরকারি পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে ৫০ থেকে ৭০ জন চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা তুলেছিলেন তৎকালীন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি গুণধর খাঁড়া। দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও চাকরি বা টাকা কোনোটিই ফেরত না পাওয়ায় ক্ষোভ জমছিল ভুক্তভোগীদের মনে। এদিন অন্তত ১৫ জন চাকরিপ্রার্থী ও তাঁদের পরিবার গুণধরের ব্যবসায়িক ভবনের সামনে জড়ো হয়ে টাকা ফেরত চান। খবর পেয়ে সেখানে বিজেপির নেতা-কর্মীরা যোগ দিলে বিক্ষোভ চরম রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কেউ পৈতৃক জমি বিক্রি করে, আবার কেউ ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন বলে জানান।

তদন্তের নয়া মোড় ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

বিক্ষোভের তীব্রতার মুখে পড়ে গুণধর খাঁড়া টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং স্থানীয়দের চাপে পড়ে টাকা ফেরতের মুচলেকা লিখে দেন। এর মাঝেই তাঁর ওপর ডিম ছোড়া শুরু হয়। পুলিশ এসে তাঁকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় গুণধর জানান, শিক্ষক নিয়োগ মামলায় ২০২৩ সালে গ্রেফতার হওয়া হুগলি জেলা যুব তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই এই টাকা নেওয়া হয়েছিল এবং সব টাকা তাঁর কাছেই গিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক হেমন্ত বাগ কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সমস্ত টাকা অবিলম্বে ফেরতের দাবি তুলেছেন। এই ঘটনার ফলে এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং নিয়োগ দুর্নীতির শিকড় গ্রামীণ স্তরে কতটা গভীরে বিস্তৃত, তা আবারও জনসমক্ষে চলে এল। এর ফলে আগামী দিনে স্থানীয় রাজনীতিতে শাসক দলের ওপর চাপ আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *