পরিবারের সবার নথি না দিলে বাতিল হতে পারে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আবেদন!

পরিবারের সবার নথি না দিলে বাতিল হতে পারে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আবেদন!

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মহিলাদের জন্য চালু হওয়া ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প নিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে। অনলাইন এবং অফলাইন—উভয় মাধ্যমেই এই প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপের প্রক্রিয়া জোরকদমে চলছে। অধিকাংশ আবেদনকারী অনলাইনের সহজ প্রক্রিয়াকে বেছে নিলেও, অফলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে এবার নতুন নিয়ম ও কড়াকড়ি যুক্ত হলো। হুগলির চুঁচুড়া পুরসভার সাম্প্রতিক একটি নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে আবেদনকারীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

পুরসভার নয়া নির্দেশিকা এবং আবেদনের শর্ত

চুঁচুড়া পুরসভার পক্ষ থেকে জারি করা বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ৩ জুনের মধ্যে যে সমস্ত মহিলারা অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পের জন্য অফলাইনে আবেদন জানিয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে কিছু অতিরিক্ত নিয়ম মানতে হবে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, আবেদন করার সময় কেবল আবেদনকারীর নিজস্ব আধার কার্ড, ভোটার কার্ড এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য জমা দিতে হচ্ছিল। কিন্তু চুঁচুড়া পুরসভার নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে আবেদনকারী মহিলার পাশাপাশি তার পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের আধার কার্ড, ভোটার কার্ড এবং রেশন কার্ডের ফটোকপি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নথি জমা না দিলে বাতিল হতে পারে ৩০০০ টাকা

বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, যারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিবারের সকল সদস্যের এই প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেবেন না, তাদের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আবেদনটি সম্পূর্ণ বাতিল বলে গণ্য হতে পারে। যার ফলে প্রতি মাসে প্রাপ্য ৩০০০ টাকার আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থাকছে আবেদনকারীদের।

যেসব পরিবার এখনও এই নথিগুলো জমা দেয়নি, তাদের জন্য পুরসভার পক্ষ থেকে বিকল্প ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সেক্ষেত্রে একটি সাদা কাগজে আলাদাভাবে আবেদনপত্র লিখে পুরসভা অফিসে জমা দিতে হবে। ওই চিঠিতে পরিবারের প্রধানের নাম, সুবিধাভোগী মহিলার নাম, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড নম্বর এবং আগের আবেদনপত্রে দেওয়া মোবাইল নম্বরটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

প্রশাসনিক কড়াকড়ির কারণ ও প্রভাব

হুগলির চুঁচুড়া পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিপুল সংখ্যক পরিবার এই প্রকল্পের জন্য আবেদন জানিয়েছেন। প্রশাসনের একাংশের মতে, প্রকল্পে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং একই পরিবারের একাধিক ভুয়ো আবেদন বা জালিয়াতি রুখতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রকৃত অভাবী ও যোগ্য মহিলারাই কেবল প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।

তবে হঠাৎ করে পরিবারের সবার নথি জমা দেওয়ার এই নির্দেশিকায় সাধারণ মানুষের হয়রানি ও উদ্বেগ কিছুটা বেড়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তথ্য জমা দেওয়ার জন্য পুরসভা অফিসে ভিড় জমতে শুরু করেছে। উল্লেখ্য, এই নিয়মটি আপাতত কেবল চুঁচুড়া পুরসভার জন্যই কার্যকর করা হয়েছে; রাজ্যের অন্য কোনো পুরসভা বা পঞ্চায়ত এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত এমন কোনো বাধ্যতামূলক নির্দেশিকা জারি করা হয়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *