তৃণমূলের ভুলে হাতছাড়া উন্নয়নের সুযোগ, ডবল ইঞ্জিন সরকারের হাত ধরে ‘নববঙ্গ’ গড়ার প্রতিশ্রুতি শমীকের!

অপরিকল্পিত নগরায়নের দায় তৃণমূলের
তৃণমূল কংগ্রেসের উদাসীনতায় পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন থমকে গিয়েছিল এবং রাজ্যবাসী আধুনিক নাগরিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। শনিবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে তিনি দাবি করেন, বিগত সরকারের আমলে কেন্দ্রের একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প রাজ্যে বাস্তবায়িত হতে দেওয়া হয়নি। এর ফলে রাজ্যের বহু দ্রুত বর্ধনশীল জনপদ আজ অপরিকল্পিত নগরায়নের গুরুতর সমস্যায় ভুগছে।
এই অনুন্নয়নের মূল কারণ হিসেবে ২০১৬ সালের একটি প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে। সেই সময় কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের ৭৮০টি ‘সেনসাস টাউন’ বা জনগণনা শহরকে নগর প্রশাসনের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল কেন্দ্রীয় আর্থিক সহায়তায় উন্নত রাস্তাঘাট, নিকাশি ব্যবস্থা, পরিশ্রুত পানীয় জল, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পথবাতির মতো পরিকাঠামো গড়ে তোলা। কিন্তু তৎকালীন তৃণমূল সরকারের অসহযোগিতায় সেই বিশাল সুযোগ হাতছাড়া হয়। ফলস্বরূপ, এই এলাকাগুলি অপরিকল্পিতভাবে বৃদ্ধি পেলেও সেখানে আধুনিকতার লেশমাত্র পৌঁছায়নি।
প্রযুক্তি ও পরিকল্পনায় উন্নত ভবিষ্যতের লক্ষ্য
এই বঞ্চনা ও অনুন্নয়নের নেতিবাচক প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসতে শমীক ভট্টাচার্য রাজ্যের মানুষকে আশ্বস্ত করেছেন যে, বর্তমান ডবল ইঞ্জিন সরকার এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটাবে। তাঁর সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি, কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে অর্থ, সঠিক পরিকল্পনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গকে একটি বাসযোগ্য ও উন্নত নগর ব্যবস্থায় রূপান্তরিত করা হবে। রাজ্যবাসী আর রাজনীতি নয়, কেবল উন্নয়ন চায়—এই বার্তাকে সামনে রেখেই ‘নববঙ্গ’ গড়ার ডাক দিয়েছেন তিনি।
রাজ্যে সদ্য নির্বাচিত সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই সরকার ও দলের মধ্যে সমন্বয় রেখে চলার বার্তা দিয়েছেন। এই আবহে রাজ্য বিজেপির সভাপতির এই উন্নয়নমুখী প্রতিশ্রুতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সরকারি সিদ্ধান্তে সরাসরি দলের হস্তক্ষেপ না থাকলেও, পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় শাসক দল ও সরকারের এই যৌথ রূপরেখা আগামী দিনে রাজ্যের আর্থ-সামাজিক চিত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।