ভারতকে টপকে আম কূটনীতিতে কাঠমান্ডুকে প্রাধান্য তারেক রহমানের
.jpeg.webp?w=800&resize=800,533&ssl=1)
ঐতিহ্যবাহী আম কূটনীতির চিরাচরিত ছক ভেঙে এবার প্রতিবেশী ভারতের পরিবর্তে নেপালকে বাড়তি গুরুত্ব দিল বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছাস্বরূপ ১৭৫০ কেজি সুস্বাদু আম পাঠানো হয়েছে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে। নেপালের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীবর্গ এবং শিল্পপতিসহ ৩৬০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির কাছে পৌঁছেছে এই বিশেষ উপহার। অথচ, অতীতে আম কূটনীতির ক্ষেত্রে ভারতকে সর্বদা প্রথম অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও এবার নয়াদিল্লিতে আম পাঠানোর বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা মেলেনি ঢাকার পক্ষ থেকে।
আম কূটনীতির আড়ালে নতুন সমীকরণ
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেপালের দিকে এই বাড়তি নজর দেওয়ার পেছনে সুদূরপ্রসারী কৌশল কাজ করছে। তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে ভারতের পরিবর্তে মালয়েশিয়া ও চীনকে বেছে নিয়েছেন। এই আম পাঠানোকে সেই পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবেই দেখছেন অনেকে। এছাড়া, হিমালয় কন্যা নেপালে কর্মরত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষা এবং দেশটিতে বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করাই এই উদ্যোগের নেপথ্যের মূল লক্ষ্য।
শ্রমিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বার্তা
নেপালের বর্তমান অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সে দেশের সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের অনিশ্চয়তা ঢাকার নীতিনির্ধারকদের চিন্তায় রেখেছে। বিশেষ করে নেপালে কর্মরত নথিপত্রহীন বাংলাদেশিদের অবস্থান যাতে ঝুঁকিতে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে কাঠমান্ডুর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এখন ঢাকার অন্যতম অগ্রাধিকার। এই আম কূটনীতির মাধ্যমে নেপালের প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক সুবিধা আদায় করতে চায় তারেক রহমানের সরকার। ভারতের মাটি ব্যবহার করে নেপালে এই চালান পৌঁছালেও দিল্লির জন্য কোনো উপহার না পাঠানো যে বর্তমান সরকারের পরিবর্তিত কূটনৈতিক অবস্থানেরই স্পষ্ট ইঙ্গিত, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তুঙ্গে।