তিন লক্ষ টাকা ঋণ! পিএম বিশ্বকর্মা যোজনায় আবেদন করবেন কীভাবে?

কলকাতা: দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর অবশেষে পশ্চিমবঙ্গের কুটির শিল্প ও সনাতনী পেশার সঙ্গে যুক্ত কারিগরদের জন্য সুখবর। কেন্দ্রীয় সরকারের ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প ‘পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা’ আনুষ্ঠানিকভাবে পশ্চিমবঙ্গে বাস্তবায়িত হতে শুরু করেছে। গত ১ জুন থেকে রাজ্যে এই প্রকল্পের সুফল পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই গ্রামীণ ও শহরতলির কারিগরদের মধ্যে আশার আলো দেখা দিয়েছে।
মূল লক্ষ্য ও প্রেক্ষাপট
২০২৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই প্রকল্পের সূচনা করলেও, নানা কারণে বাংলায় এর বাস্তবায়ন এতদিন থমকে ছিল। অবশেষে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে প্রকল্পটি রাজ্যে চালু হওয়ায় উপকৃত হবেন তাঁতি, কুমোর, কামার, ছুতার, রাজমিস্ত্রি, ভাস্কর, দর্জি ও চর্মকার সহ ১৮টি পেশার কারিগররা। মূলত আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ার অভাব এবং আর্থিক সংকটের কারণে যে সব দক্ষ শিল্পী ও কারিগর পিছিয়ে পড়ছেন, তাঁদের অর্থনৈতিক মূলধারায় ফিরিয়ে আনাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তার রূপরেখা
‘পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা’র বিশেষত্ব হলো এটি কেবল ঋণের সুযোগই দিচ্ছে না, বরং কারিগরদের দক্ষতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিতদের ৫ থেকে ৭ দিনের একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এই প্রশিক্ষণ চলাকালীন প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে স্টাইপেন্ড সরাসরি কারিগরদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে, যা অভাবী কারিগরদের কাছে বাড়তি পাওনা।
প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর:
- টুলকিট অনুদান: আধুনিক সরঞ্জাম কেনার জন্য সরকার ১৫,০০০ টাকার এককালীন আর্থিক অনুদান দেবে।
- গ্যারান্টিহীন ঋণ: সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো ব্যাংক থেকে কোনো জামানত বা কোল্যাটেরাল ছাড়াই ঋণ পাওয়ার সুযোগ। প্রথম দফায় ১৮ মাসের মেয়াদে ১ লক্ষ টাকা এবং তা পরিশোধের পর দ্বিতীয় দফায় ৩০ মাসের মেয়াদে আরও ২ লক্ষ টাকা ঋণ পাওয়ার সুবিধা রয়েছে। ঋণের সুদের হারও থাকবে অত্যন্ত সুলভ।
- ডিজিটাল ইনসেনটিভ: স্বচ্ছতা ও আধুনিকতা বজায় রাখতে ডিজিটাল লেনদেন করলে প্রতি ট্রানজ্যাকশনে ১ টাকা করে বাড়তি ইনসেনটিভ পাবেন সুবিধাভোগীরা।
বিশ্লেষণ: কেন এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ?
অর্থনীতিবিদদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ অর্থনীতির মেরুদণ্ড হলো এই সনাতনী শিল্পকলা। কিন্তু পুঁজির অভাব এবং বিপণনের সমস্যার কারণে বহু কারিগর তাদের পৈতৃক পেশা ত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছেন। ‘পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা’ শুধুমাত্র ঋণ দিচ্ছে না, বরং প্রযুক্তির সঙ্গে কারিগরদের মেলবন্ধন ঘটিয়ে কুটির শিল্পকে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকার যোগ্য করে তুলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি সঠিক উপায়ে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে এই প্রকল্প রূপায়ণ করা যায়, তবে বাংলার হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি স্বনির্ভর হওয়ার পথে এক বড় মাইলফলক তৈরি হবে। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী যোগ্য কারিগররা এখন সরকারি জনকল্যাণ শিবিরের মাধ্যমেই এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
প্রশাসনিক মহলের অভিমত, তৃণমূল স্তরের মানুষের কাছে এই সুবিধা পৌঁছে দিতে পারলে রাজ্যের কুটির শিল্পের মানচিত্রে এক নতুন যুগের সূচনা হতে পারে।