তৃণমূলের ২০ বিদ্রোহী সাংসদের ‘ভরসা’ এখন হাওড়ার দল এনসিপিআই!

তৃণমূলের ২০ বিদ্রোহী সাংসদের ‘ভরসা’ এখন হাওড়ার দল এনসিপিআই!

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন নাটকীয় মোড় দেখা যাচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবার বড়সড় রূপ নিয়েছে, যেখানে কাকলি ঘোষ দস্তিদারসহ দলের ২০ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ একযোগে ন্যাশনালইজড কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (এনসিপিআই) নামক একটি প্রায় অস্তিত্বহীন রাজনৈতিক দলের প্রতি সমর্থন জানাতে চলেছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই আকস্মিক ঘটনার পেছনে মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা বিপ্লবকুমার দেবের একটি রাজনৈতিক ‘মাস্টারস্ট্রোক’। এই কৌশলী পদক্ষেপের ফলে রাতারাতি জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় চলে এসেছে হাওড়ার সাঁকরাইলের একটি ছোট রাজনৈতিক দল।

আড়ালে থাকা কুন্ডু দম্পতি ও নামমাত্র সম্পত্তি

হাওড়ার সাঁকরাইলের হাটগাছার বাণীপুরের একটি সাধারণ সবুজ রঙের দোতলা বাড়িই এখন এই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের মূল কেন্দ্র তথা এনসিপিআই-এর সদর দপ্তর। স্থানীয় সংবাদপত্রের প্রকাশক উত্তীয় কুণ্ডু এবং কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী শিউলি কুণ্ডু এই দলের অন্যতম প্রধান মুখ। একসময় দুঃস্থ শিশুদের হোম হিসেবে ব্যবহৃত এই বাড়িটি থেকেই এখন দলীয় কাজকর্ম পরিচালিত হয়, যদিও সেখানে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের চেয়ে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর নারীদের কাজই বেশি চলে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দলটির আর্থিক ভিত্তি অত্যন্ত দুর্বল এবং তারা মাত্র ১ লক্ষ trace হাজার টাকা অনুদান পেয়েছিল। এর আগে ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে কিংবা ত্রিপুরার বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিলেও দলটি কোথাও ন্যূনতম প্রভাব ফেলতে পারেনি।

বিজেপি সংযোগ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

এই অখ্যাত দলটির বর্তমান সভাপতি শান্তনু দে বর্তমানে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে বসবাস করেন। এই চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক আবহের মধ্যে তিনি প্রকাশ্যেই নিজেকে একজন বিজেপি সমর্থক হিসেবে দাবি করেছেন এবং দেশের স্বার্থে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন। একইসঙ্গে ত্রিপুরার কৈলাশহরের এনসিপিআই নেতা জহিরুল ইসলামও তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

এই ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। এতদিন যে দলটির রাজনৈতিক অস্তিত্ব কার্যত নামমাত্র ছিল, একসঙ্গে ২০ জন সাংসদের সমর্থন পাওয়ায় তা রাতারাতি সংসদে একটি বড় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে। এর ফলে একদিকে যেমন তৃণমূল কংগ্রেস বড়সড় সাংগঠনিক ও সংখ্যাগত ধাক্কার মুখে পড়তে পারে, অন্যদিকে এনসিপিআই-এর শীর্ষ নেতৃত্বের বিজেপি-ঘেঁষা অবস্থানের কারণে এই সাংসদদের সমর্থন পরোক্ষভাবে কেন্দ্রের শাসক শিবিরের হাতকেই শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *