এক শতাব্দী পর বিরল মহাযোগ, সোমবতী অমাবস্যার পুণ্যলগ্নে কাটবে জীবনের সব বাধা!

এক শতাব্দী পর বিরল মহাযোগ, সোমবতী অমাবস্যার পুণ্যলগ্নে কাটবে জীবনের সব বাধা!

সনাতন ধর্মে অমাবস্যা তিথির বিশেষ গুরুত্ব থাকলেও, তা যদি সোমবার উদযাপিত হয় তবে তার মাহাত্ম্য বহুগুণ বেড়ে যায়। চলতি ২০২৬ সালের আষাঢ় মাসের সোমবতী অমাবস্যাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে পুণ্যার্থীদের মধ্যে এক অভূতপূর্ব উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। জ্যোতিষবিদদের মতে, এবার পুরো এক শতাব্দী অর্থাৎ ১০০ বছর পর এই তিথিতে একটি পরম শুভ ও বিরল গ্রহ-নক্ষত্রের সংযোগ তৈরি হচ্ছে। এই বিশেষ মহাযোগের দিনে পবিত্র নদীতে স্নান, দানধ্যান এবং বিশেষ করে পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে পুজো বা তর্পণ করলে আজীবনের সমস্ত কষ্ট ও পিতৃ দোষ থেকে চিরতরে মুক্তি পাওয়া সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।

শতবর্ষের বিরল যোগের কারণ ও ধর্মীয় মাহাত্ম্য

জ্যোতিষ শাস্ত্রের ব্যাখ্যাকারদের মতে, গ্রহ ও নক্ষত্রের এই শতবর্ষ প্রাচীন বিরল অবস্থানের কারণেই এবারের আষাঢ় অমাবস্যা এতটা অনন্য হয়ে উঠেছে। এই মহামুহূর্তে করা যে কোনো শুভ কাজ ও উপাসনা অক্ষয় পুণ্যদায়ক হিসেবে বিবেচিত হয়। শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই বিশেষ দিনে বিবাহিত মহিলারা তাঁদের স্বামীর দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনা করে উপবাস ব্রত পালন করেন এবং অশ্বত্থ গাছের পুজো করে থাকেন। একই সঙ্গে, যদি কোনো ব্যক্তির কুণ্ডলীতে পিতৃ দোষ থাকে অথবা পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি ও আর্থিক অনটন লেগেই থাকে, তবে এই শতাব্দীর সবচেয়ে শুভ সোমবতী অমাবস্যায় পিতৃ পুজো করা অত্যন্ত ফলদায়ী হতে পারে।

জনজীবনে এর প্রভাব ও শাস্ত্রীয় বিধান

এই শতবর্ষের বিরল শুভ সংযোগকে হাতছাড়া না করতে এবং জীবনের সমস্ত গ্রহদোষ কাটিয়ে সৌভাগ্যের উদয় ঘটাতে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সাধুসন্তরা ইতিমধ্যেই ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। শাস্ত্রজ্ঞদের মতে, এই দিনে তিল, জল ও কুশ দিয়ে পূর্বপুরুষদের পিণ্ডদান বা তর্পণ করলে পিতররা পরম তৃপ্ত হন এবং বংশধরদের সুখ-সমৃদ্ধির আশীর্বাদ দেন। এর পাশাপাশি, এই পুণ্যলগ্নে ভক্তিভরে বিষ্ণু পুজো ও শিব আরাধনার বিশেষ বিধান রয়েছে। এই মহামুহূর্তে দুঃস্থ ও অভাবী মানুষদের অন্ন, বস্ত্র বা ছাতা দান করলে কোটিরকম যজ্ঞের সমতুল্য ফল লাভ হয়। সোমবতী অমাবস্যার সকালে সূর্যোদয়ের সময় পবিত্র নদী বা জলাশয়ে স্নানের রীতি রয়েছে, তবে তা সম্ভব না হলে বাড়িতেই স্নানের জলে গঙ্গাজল মিশিয়ে অবগাহন করলেও সমান পুণ্য মেলায় সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরেও এই তিথি ঘিরে ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের আগ্রহ তুঙ্গে উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *