প্রথম ডেটেই ‘মনের মানুষ’ পেয়েছেন ভেবে উচ্ছ্বসিত? সাবধান করছেন মনোবিদরা!

আজকের গতিময় জীবনে প্রথম ডেটেই কাউকে জীবনসঙ্গী বা ‘সোলমেট’ ভেবে নেওয়ার প্রবণতা অনেকের মধ্যেই স্পষ্ট। গঙ্গার ধার কিংবা কোনো রেস্তোরাঁয় কাটানো কিছুটা সময়, মৃদু হাসিমুখ আর অল্প কিছু কথার ওপর ভিত্তি করেই অনেকে জীবনের বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। তবে মনোবিদরা এই আবেগের চোরাবালি নিয়ে তীব্র সতর্কতা জারি করেছেন। তাঁদের মতে, মাত্র একটি ডেটের অনুভূতির ওপর ভিত্তি করে জীবনসঙ্গী নির্বাচনের মতো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে পরবর্তীতে তা বড়সড় মানসিক বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।
পরিচিত মানসিক ধরন ও ভার্চুয়াল মোহের ফাঁদ
কাউকে অল্প সময়ের জন্য দেখেই খুব চেনা মনে হওয়ার পেছনে মূলত এক মনস্তাত্ত্বিক অবচেতন প্রক্রিয়া কাজ করে। মনোবিদদের মতে, প্রথম দেখায় কাউকে খুব চেনা লাগার অর্থ হলো তার মানসিক প্যাটার্ন বা আচরণ আপনার পূর্বপরিচিত। এটি আপনার শৈশবের কোনো প্রিয় মানুষ কিংবা কোনো প্রাক্তন সঙ্গীর সঙ্গে মিলে যেতে পারে। এই অবচেতন মিলের কারণে মানুষ নতুন সঙ্গীর প্রতি অবাস্তব প্রত্যাশা তৈরি করে ফেলে, যা পরবর্তীতে পূরণ না হলে সম্পর্কে দ্রুত ফাটল ধরে।
একইভাবে, কেবল টেক্সট মেসেজের ওপর নির্ভর করে কাউকে মনের মানুষ ভাবা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ভার্চুয়াল মাধ্যমে মানুষ নিজেকে গুছিয়ে এবং ততটুকুই প্রকাশ করে, যতটুকু সে দেখাতে চায়। বার্তা আদান-প্রদান এক ধরনের বিশেষ দক্ষতা হওয়ায় সেখানে সাবলীল ব্যক্তিও বাস্তব জীবনে সম্পূর্ণ ভিন্ন বা কম কথার মানুষ হতে পারেন। এছাড়া, অপর প্রান্তের মানুষের অতিরিক্ত ও অকারণ প্রশংসা মানুষের মানসিক দুর্বলতাকে বাড়িয়ে দেয়। প্রশংসার জোয়ারে ভেসে অনেকেই ভাবেন সামনের মানুষটিই তাঁকে সবচেয়ে ভালো বোঝে, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সাময়িক মোহ মাত্র।
ভুল সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য প্রভাব ও পরিণতি
বাস্তবতা যাচাই না করে হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে সম্পর্কের স্থায়িত্ব কমে যায়। প্রথম ডেটের ভালো লাগাকে চূড়ান্ত ভালোবাসা মনে করার অবাস্তব প্রত্যাশা যখন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়, তখন মানসিক দূরত্ব ও অবসাদ গ্রাস করে। এর ফলে অল্প দিনের মধ্যেই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। মনোবিদদের পরামর্শ, প্রথম দেখায় ভালো লাগা স্বাভাবিক হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সম্পর্কের বোঝাপড়াকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া উচিত। সামনাসামনি নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে একে অপরকে চিনে তবেই দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের পথে হাঁটা শ্রেয়।