নিজের রাজনৈতিক পরিচয়ই এড়িয়ে গেলেন কাজরী! মমতার পরিবারেও কি ঘনাচ্ছে বিদ্রোহের মেঘ?

কলকাতা পুরসভার সদর দফতরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে এক অভাবনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় স্পষ্ট করতে সরাসরি অস্বীকার করেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইয়ের স্ত্রী তথা কাউন্সিলর কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের বর্তমান পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর এই নীরবতা ও এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা বঙ্গ রাজনীতিতে এক নতুন ও তাৎপর্যপূর্ণ জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
দলের নাম বলতে অনীহা কাজরীর
আগামী ২০ জুন ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরকে সামনে রেখে পুরসভায় পরিচ্ছন্নতা অভিযানের সূচনা করতে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা চাইছেন যাতে কাউন্সিলর হিসেবে কাজ করতে কোনো অসুবিধা না হয়। কিন্তু বর্তমানে তিনি কোন দলে রয়েছেন, এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি সাফ জানান, তিনি কেবলই একজন কাউন্সিলর এবং আপাতত দলের বিষয়ে কোনো কথা বলা যাবে না। নিজেকে তৃণমূল কাউন্সিলর হিসেবে পরিচয় দিতে তাঁর এই অনীহা রীতিমতো বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে।
তৃণমূলে ভাঙন ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের নেপথ্যে দলের বর্তমান অভ্যন্তরীণ গভীর সঙ্কটই কারণ হিসেবে উঠে আসছে। সম্প্রতি প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফা এবং শাসক দলের একাধিক বিধায়ক ও সাংসদের প্রকাশ্য বিদ্রোহে তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত বিপর্যস্ত। ইতিমধ্যেই ২০ জন সাংসদ দিল্লিতে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’-তে যোগ দিয়েছেন। দলের এই চরম ডামাডোলের মধ্যে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের সদস্যের এমন অবস্থান প্রমাণ করছে যে, দলবদলের প্রভাব ও বিদ্রোহের ছায়া এবার শীর্ষ নেতৃত্বের অন্দরেও প্রবলভাবে এসে পড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কাজরীর এই এড়িয়ে যাওয়া আগামী দিনে দলের অন্দরে আরও বড় কোনো ভাঙন বা অস্তিত্বের সঙ্কটেরই সুস্পষ্ট ইঙ্গিত।