জমানা বদলাতেই শ্রীঘরে মহিলা পুলিশকে কলার ধরা সেই দাপুটে তৃণমূল নেতা!

জমানা বদলাতেই শ্রীঘরে মহিলা পুলিশকে কলার ধরা সেই দাপুটে তৃণমূল নেতা!

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই অপরাধমূলক কাজকর্ম ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের কড়া অবস্থান স্পষ্ট হচ্ছে। এবার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন আরামবাগের দাপুটে তৃণমূল নেতা মইদুল ইসলাম খান ওরফে সঞ্জয় খান। রবিবার রাতে আরামবাগ থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পূর্বতন তৃণমূল জমানায় যাঁর বিরুদ্ধে ভুরি ভুরি অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ক্ষমতার প্রভাবে পুলিশ স্পর্শ করতে পারেনি, রাজ্যে ক্ষমতার হাতবদল হতেই সেই প্রভাবশালী নেতাকে আইনের মুখোমুখি হতে হলো। সোমবার তাঁকে আরামবাগ মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছে।

পুরনো অপরাধ ও বর্তমানের অভিযোগ

ধৃত মইদুল ইসলাম খান তৃণমূলের আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা সংখ্যালঘু সেলের সাধারণ সম্পাদক ও গোঘাট ১ পঞ্চায়েত সমিতির বনভূমির কর্মাধ্যক্ষ পদে আসীন ছিলেন। এলাকায় তাঁর বিরুদ্ধে মারধর, হুমকি, অশান্তি ছড়ানো এবং তোলাবাজি-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তবে তাঁর সবচেয়ে বিতর্কিত ভূমিকা প্রকাশ্যে আসে ২০২৪ সালে। সে সময় গোঘাট থানার এক মহিলা সাব-ইন্সপেক্টরকে আঙুল উঁচিয়ে হুমকি দেওয়া এবং কলার ধরে ঠেলাঠেলির মতো গুরুতর শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছিল এই নেতার বিরুদ্ধে। তৎকালীন শাসকদলের ছত্রছায়ায় থাকার কারণে মামলা দায়ের হলেও পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করার সাহস দেখায়নি। অবশেষে নতুন করে তোলাবাজি ও মারধরের অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।

প্রশাসনিক কড়াকড়ি ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বর্তমান প্রশাসন ভোট-পরবর্তী হিংসা, দুর্নীতি ও পেশিশক্তি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে যে কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছিল, এই গ্রেপ্তারি তারই ধারাবাহিকতা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই ঘটনার ফলে স্থানীয় রাজনীতি ও প্রশাসনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে চলেছে। একদিকে যেমন পূর্বতন জমানার দাপুটে নেতাদের একচ্ছত্র আধিপত্য ও ভয়ের পরিবেশ হ্রাস পাবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মনে আইনের শাসনের প্রতি আস্থা ফিরবে। পাশাপাশি, আরামবাগ ও সংলগ্ন এলাকায় তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত আরও দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *