যে পাত্রে ঢালবে সেই পাত্রের রূপ নেবো, সায়নীর পুরনো মন্তব্যে নতুন জল্পনা

কপালে বড় টিপ, চুলে খোঁপা আর সাদা শাড়ির সেই পরিচিত ‘লুক’ এখন অতীত। কলকাতা বিমানবন্দরে মাস্ক এবং টুপির আড়ালে মুখ ঢেকে, জিন্স ও টি-শার্ট পরে দেখা গেল সায়নী ঘোষকে। গত কয়েক বছর ধরে তৃণমূলের মঞ্চে যাঁর স্টাইল স্টেটমেন্ট নিয়ে ট্রোলিং ও ‘মমতার কপি ক্যাট’ তকমা জুটেছিল, তাঁর এই আকস্মিক ভোলবদল এখন রাজ্য রাজনীতির সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয়। রবিবার দিল্লির হাই-প্রোফাইল ‘বিদ্রোহী’ ব্লকের বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়ার সময় সাংসদ-অভিনেত্রীর এই নতুন রূপ এবং পুরনো একটি মন্তব্য দলবদলের জল্পনাকে এক ধাক্কায় বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

শাড়ি ছেড়ে জিন্স-টুপিতে সায়নী, পুরনো সাক্ষাৎকার ঘিরে তোলপাড়

রাজনীতিতে আসার পর নিজের পোশাকের পরিবর্তন নিয়ে অতীতে এক সাক্ষাৎকারে সায়নী ঘোষ জানিয়েছিলেন, গ্রামীণ মহিলাদের সাথে সুখ-দুঃখের কথা বলতে এবং জনসংযোগের সুবিধার্থেই তিনি সচেতনভাবে শাড়ি পরা শুরু করেছিলেন। তবে বর্তমানে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যেতেই তাঁর পুরনো একটি বক্তব্য নতুন করে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

সেসময় তিনি বলেছিলেন, “আমি সব সময় একজন অভিনেতা এবং অভিনেতা হিসাবেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। আমায় ভাঙা যাবে, মোচড়ানো যাবে। যখন যে পাত্রে ঢালবে, সেই পাত্রের রূপ আমি ধারণ করে নেব। সেটাই আমার নমনীয়তা।” ৪ মে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপির বিপুল জয়ের পর, সায়নীর এই ‘পাত্রের রূপ ধারণ’ করার মন্তব্যটি যে অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। টলিউডের একাংশের মতো সায়নীও এবার নিজের রাজনৈতিক ‘পাত্র’ বদলাতে চলেছেন কিনা, এই মন্তব্য ঘিরে সেই চর্চায় নতুন ঘি পড়েছে।

যুব সভাপতির পদ খোয়ানোর পর কোন পথে অভিনেত্রী?

দিল্লির রুদ্ধদ্বার এই বৈঠকের আবহেই তৃণমূলের যুব সংগঠনে এক নাটকীয় রদবদল ঘটিয়ে সায়নী ঘোষকে রাজ্য যুব সভাপতির পদ থেকে আচমকা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর জায়গায় নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়কে। দলীয় এই চরম ধাক্কার পরই দিল্লির ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের বৈঠকে সায়নীর উপস্থিতি এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নয়াদিল্লি বিমানবন্দরে দলবদল এবং এনডিএ (NDA)-কে সমর্থন করা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে সায়নী যে মন্তব্য করেছেন, তার প্রধান দিকগুলি নিচে তুলে ধরা হলো:

  • সঠিক সময়ে খোলসা: সায়নী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “সব জেনে যাবেন। যখন বলার সময় আসবে, সব বলে দেব।”
  • ক্ষেত্রের লোকেদের জবাব: সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “আপনাদের জবাব দেব না, শুধু নিজের ক্ষেত্রের লোকেদের কাছেই বলব। আমার আওয়াজ সবার কাছেই পৌঁছবে, সঠিক সময়ে।”

এতদিন যিনি নিজেকে একনিষ্ঠ অনুগামী হিসেবে তুলে ধরেছিলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি এবার কোন নতুন রূপ ধারণ করেন, এখন সেদিকেই নজর গোটা রাজ্যের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *