১৯ নাকি ২২! তৃণমূল সাংসদদের দলবদলের জল্পনায় কী বলছে সংবিধান
তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে তীব্র হচ্ছে বিদ্রোহের সুর। দলের একদল বিদ্রোহী সাংসদ ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে সংবিধানের দশম তফসিল বা দলত্যাগ-বিরোধী আইনের প্রয়োগ। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি একাংশের এই অসন্তোষ এবং সম্ভাব্য দলবদল রাজ্য রাজনীতিতে এক বড় ধরনের পালাবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আইনের মারপ্যাঁচ ও সংখ্যার খেলা
২০০৩ সালের ৯১তম সংবিধান সংশোধন অনুযায়ী, দলত্যাগ-বিরোধী আইনের কোপ থেকে বাঁচতে কোনো দলের সাংসদদের অন্য দলে মিশে যাওয়ার ক্ষেত্রে অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন থাকা প্রয়োজন। বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদ রয়েছেন। সেই হিসাব অনুযায়ী, ভাঙন ধরাতে বা দলবদল করতে কমপক্ষে ১৯ জন সাংসদের সমর্থন বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে, বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, ইতিমধ্যেই তাঁদের সঙ্গে ২০ জন সাংসদ রয়েছেন এবং আরও ২ জনের সমর্থন মেলার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁদের দাবি অনুযায়ী এই সংখ্যা ২২-এ পৌঁছালে বিদ্রোহীরা সহজেই আইনি সুরক্ষা পাবেন এবং তাঁদের সদস্যপদ খারিজ হওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না। এই ঘটনা তৃণমূলের সংসদীয় শক্তিতে বড়সড় ধাক্কা দিতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের লড়াই এবং সম্ভাব্য প্রভাব
সাংসদ পদ টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে বিদ্রোহীরা সংখ্যাতত্ত্বের জোরে এগিয়ে থাকলেও, মূল দল ও প্রতীকের মালিকানা কার হাতে থাকবে তা নিয়ে লড়াই হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার। নির্বাচন কমিশন সাধারণত দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, সাংগঠনিক কাঠামো এবং অভ্যন্তরীণ শক্তির ওপর ভিত্তি করে আসল উত্তরাধিকারী নির্ধারণ করে থাকে। এই ক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একচ্ছত্র সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ এখনও তৃণমূলের সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা।
বিদ্রোহীরা ইতিমধ্যেই স্পিকারের কাছে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, আর অন্যদিকে দলের ভাঙন রুখতে পাল্টা কৌশল সাজাচ্ছে তৃণমূল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংখ্যাতত্ত্ব ও আইনি সুরক্ষার এই লড়াই শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের দরজায় গিয়ে পৌঁছাবে। এই দলবদলের জল্পনা বাস্তবে রূপ নিলে তা শুধুমাত্র দলের অন্দরেই নয়, সামগ্রিক রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতির সমীকরণেও গভীর প্রভাব ফেলবে।