যুবরাজনীতি না বিভেদের ফাঁদ? CJP নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য পবনের

সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষা ব্যবস্থার নানা অনিয়ম ও বেকারত্বের মতো জ্বলন্ত ইস্যুগুলোকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে দ্রুত জনসমর্থন আদায় করে নিচ্ছে যুব-নেতৃত্বাধীন সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি। বিশেষত নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর থেকে এই সংগঠনের প্রতিবাদী কর্মসূচিগুলি সমাজের বিভিন্ন স্তরে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তবে এই যুব আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এবার প্রকাশ্যে চলে এল রাজনৈতিক বিভাজন ও বিতর্ক। অন্ধ্রপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা জনপ্রিয় অভিনেতা পবন কল্যাণ কড়া ভাষায় সিজেপি-র সমালোচনা করেছেন।
পবন কল্যাণের নিশানায় সিজেপি
নয়াদিল্লিতে জনসেনা পার্টির একটি বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পবন কল্যাণ সিজেপি-র বিরুদ্ধে বিভাজনের রাজনীতির অভিযোগ আনেন। তিনি এই সংগঠনের সমর্থকদের ‘ক্ষুদ্র মানসিকতার’ বলে কটাক্ষ করে জানান, এই ধরনের সংকীর্ণ চিন্তাভাবনা দেশের ঐক্যের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। এর আগে সিজেপি-কে তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেছিলেন, ককরোচ বা আরশোলা নর্দমায় থাকে এবং তাদের ক্ষোভের কারণটি বোঝা প্রয়োজন। এমনকি নিজের ছেলে আকিরা নন্দন-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, দেশের তরুণ সমাজের মধ্যে এই আন্দোলনের খুব একটা প্রভাব বা সমর্থন নেই।
প্রকাশ রাজের পাল্টা জবাব ও সম্ভাব্য প্রভাব
পবন কল্যাণের এই কড়া মন্তব্যের ঠিক একদিন আগেই বেঙ্গালুরুতে সিজেপি-র এক বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন প্রবীণ অভিনেতা প্রকাশ রাজ এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। এই বিক্ষোভে প্রকাশ রাজ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, তাঁদেরকে পাকিস্তানি, সন্ত্রাসবাদী বা ককরোচ বলে দেগে দেওয়া হলেও তাঁরা ভয় পাবেন না। তাঁর মতে, দেশের যুবসমাজ এখন নিজেদের অধিকার আদায়ে বদ্ধপরিকর এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের উচিত নিজেদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা।
মূলত বেকারত্ব এবং শিক্ষা ক্ষেত্রের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভ থেকেই সিজেপি-র এই উত্থান। তবে পবন কল্যাণ বনাম প্রকাশ রাজের এই প্রকাশ্য বাগযুদ্ধ প্রমাণ করছে, এই যুব আন্দোলন আর কেবল রাজপথের বিক্ষোভে সীমাবদ্ধ নেই। রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে তীব্র হতে থাকা এই বিতর্ক আগামী দিনে দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে এবং তরুণ ভোটারদের মনস্তত্ত্বে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে।