বছরে ৯০০ কোটির অবৈধ অনুপ্রবেশ ব্যবসা! কাজ হারানো দালালের চাঞ্চল্যকর জবানবন্দি

বছরে ৯০০ কোটির অবৈধ অনুপ্রবেশ ব্যবসা! কাজ হারানো দালালের চাঞ্চল্যকর জবানবন্দি

উত্তর ২৪ পরগনার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে দীর্ঘ দুই দশক ধরে অবাধে চলছিল ‘ধুড় পারাপার’ বা অবৈধ অনুপ্রবেশের রমরমা কারবার। তবে গত আট মাস ধরে কড়া নজরদারির কারণে এই বেআইনি ব্যবসা কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। স্বরূপনগরের বাসিন্দা সিরাজুল (নাম পরিবর্তিত) নামে এক দালালের বয়ানে উঠে এসেছে এই অন্ধকার জগতের অবাক করা তথ্য। রাজ্য জুড়ে একসময় এই ব্যবসার বার্ষিক লেনদেন ছিল প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ কোটি টাকা।

সীমান্তে পারাপার ও আর্থিক লেনদেনের রূপরেখা

বাংলাদেশ থেকে ভারতে লোক ঢোকানোর এই প্রক্রিয়ায় দু’পারের ‘ঘাটপার্টি’ মূল ভূমিকা পালন করত। ও-পারের দালালদের হাতে মাথাপিছু ১৫ হাজার টাকা তুলে দিত অনুপ্রবেশকারীরা। এর মধ্যে ভারতীয় দালালদের কাছে আসত তিন হাজার টাকা। সেই টাকা থেকে ‘লাইনম্যান’ ও পথপ্রদর্শকদের বখরা মেটানো হত। গোটা প্রক্রিয়ায় মোবাইল ফোন এবং নির্দিষ্ট অ্যাপের মাধ্যমে চলত আর্থিক লেনদেন। সিরাজুলের দেওয়া হিসেব অনুযায়ী, এক-একটি ‘ঘাট’ দিয়ে দিনে ৩০-৩৫ জন ভারতে ঢুকত, যার ফলে ঘাটপিছু মাসিক রোজগার দাঁড়াত প্রায় ৬ লক্ষ টাকা। তবে গত কয়েক বছরে বিএসএফ-এর নজরদারি বৃদ্ধি পাওয়ায় এই অবৈধ পারাপার কঠিন হয়ে ওঠে এবং ধরা পড়লে দালালদের বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হত।

নকল নথির কারবার এবং বর্তমান প্রভাব

সীমান্ত পেরোনোর পর অনুপ্রবেশকারীদের এ দেশে পাকাপাকিভাবে বসবাসের ব্যবস্থা করে দেওয়ার পিছনে কাজ করত এক বিশাল দুর্নীতিগ্রস্ত চক্র। অসাধু পঞ্চায়েত প্রধান ও পুরপ্রধানরা টাকার বিনিময়ে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড বা ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র তৈরি করে দিতেন। লেটারহেড জাল করে এবং পুরোনো কাগজের চেহারা দিতে বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করে তৈরি হত এসব ভুয়ো নথি। এসডিও বা বিডিও অফিসের একাংশও এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তবে বর্তমানে প্রশাসন ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের জেরে এই বিশাল সিন্ডিকেট পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে। এর ফলে সীমান্ত এলাকার বেআইনি অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত দালাল ও দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিকরা এখন কাজ হারিয়ে বাধ্য হয়ে বিকল্প উপার্জনের পথ খুঁজছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *