তৃণমূলে ভাঙনের জল্পনা উস্কে দিল বিজেপি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আস্থা হারানোর দাবি

তৃণমূলে ভাঙনের জল্পনা উস্কে দিল বিজেপি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আস্থা হারানোর দাবি

পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। সম্প্রতি তৃণমূলের একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সাংসদরা ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-তে যোগ দিয়ে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটকে (এনডিএ) সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিজেপির মতে, এই পদক্ষেপ স্পষ্ট করে দেয় যে দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের ওপর থেকে ভরসা হারিয়েছেন।

বিদ্রোহের নেপথ্য কারণ ও দিল্লির তৎপরতা

বিজেপির রাজ্য মুখপাত্র এনভি সুভাষের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস দলের ভেতরের অসন্তোষ দূর করতে এবং সদস্যদের গণতান্ত্রিক পরিবেশ দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। যার জেরে দলের অন্দরে এই বিদ্রোহ মাথাচাড়া দিয়েছে। বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং নয়াদিল্লিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বাসভবনে গিয়ে দেখা করেছেন। আইনি জটিলতা এড়াতে তাঁরা আলাদা সংসদীয় ব্লক তৈরি না করে এনসিপিআই-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিধানসভা ও লোকসভায় আলাদা বসার জন্য স্পিকারের কাছে লিখিত আবেদনও জানানো হয়েছে। বিজেপি শিবিরের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের প্রকৃত উন্নয়নের স্বার্থে বহু বিধায়ক ও নির্বাচিত প্রতিনিধি এখন তৃণমূলের বিকল্প হিসেবে বিজেপিতে যোগ দিতে প্রস্তুত।

তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আইন-শৃঙ্খলা বিতর্ক

এই রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই কলকাতায় তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের ওপর ডিম ছোড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের বাইরে এই ঘটনা ঘটে। কুণাল ঘোষ এই হামলার পেছনে ‘বিজেপির গুন্ডামি’ রয়েছে বলে দাবি করেছেন এবং চন্দন নামে এক স্থানীয় যুবককে মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করে কালীঘাট থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ কর্মকর্তাদের সামনেই এই ঘটনা ঘটেছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভার স্পিকারের কাছে বিদ্রোহীদের আলাদা বসার আবেদন এবং বিজেপির এই আক্রমণাত্মক অবস্থান তৃণমূলের জন্য বড়সড় ধাক্কা। একদিকে দলত্যাগের জল্পনা এবং অন্যদিকে দলের শীর্ষ নেতার ওপর হামলার অভিযোগ—সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সমসাময়িক রাজনীতিতে শাসক দলের ওপর চাপ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে, যা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে বদলে দিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *