প্রেসক্রিপশন ছাড়া আর মিলবে না সিরাপ, শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে কড়া নির্দেশ কেন্দ্রের

প্রেসক্রিপশন ছাড়া আর মিলবে না সিরাপ, শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে কড়া নির্দেশ কেন্দ্রের

মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে বিষাক্ত কাশির সিরাপ খেয়ে বেশ কিছু শিশুর মৃত্যুর ঘটনার পর অবশেষে নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। দেশজুড়ে কাশির সিরাপসহ সব ধরনের সিরাপ জাতীয় ওষুধ বিক্রির নিয়মকানুন এক ধাক্কায় অনেকটাই কঠোর করল কেন্দ্রীয় সরকার। ১৯৪৫ সালের ড্রাগস রুলস (ঔষধ বিধি)-এ একটি বড়সড় সংশোধনী এনে জানানো হয়েছে, এখন থেকে ডাক্তারের বৈধ প্রেসক্রিপশন ছাড়া ফার্মেসি থেকে কোনও ধরনের সিরাপ কেনা বা বিক্রি করা যাবে না।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের যুগ্ম সচিব হর্ষ মঙ্গলা এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। এর আগে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর এই নিয়ম পরিবর্তনের একটি খসড়া প্রস্তাব প্রকাশ করে জনসাধারণের মতামত চাওয়া হয়েছিল। সেই সমস্ত মতামত ও পরামর্শ পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবেচনার পর, গত ৯ জুন ২০২৬ তারিখে এই ঐতিহাসিক সংশোধনীটি চূড়ান্ত আকারে প্রকাশ করা হয়।

নিয়ম পরিবর্তনের কারণ ও মূল পদক্ষেপ

নতুন এই সংশোধনীতে ড্রাগস রুলসের নির্দিষ্ট এক শ্রেণীর ওষুধের তালিকা থেকে ‘সিরাপ’ শব্দটি পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কাশির সিরাপসহ অন্যান্য সাধারণ সিরাপগুলো এতকাল যেভাবে সহজে ও অবাধে খোলা বাজারে পাওয়া যেত, তা আইনিভাবেই বন্ধ হয়ে গেল। মূলত রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশের মর্মান্তিক শিশু মৃত্যুর ঘটনার পরই সিরাপ জাতীয় ওষুধের গুণমান, নিরাপত্তা এবং অবাধ বিপণন নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে ওষুধের উৎপাদন ও বিক্রির ওপর কঠোর তদারকির দাবি ওঠার পরেই কেন্দ্র এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল।

ভোক্তা ও সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব

এই নতুন নিয়ন্ত্রক নীতি কার্যকর হওয়ার ফলে সাধারণ ভোক্তাদের সিরাপ কেনার চেনা অভ্যাস পুরোপুরি বদলে যাচ্ছে। সামান্য সর্দি-কাশি বা সাধারণ অসুস্থতায় এতদিন যারা সরাসরি ফার্মেসিতে গিয়ে নিজেদের ইচ্ছেমতো সিরাপ কিনে নিতেন, তারা এখন আর প্রেসক্রিপশন ছাড়া তা পাবেন না। যত্রতত্র এবং যখন-তখন সিরাপ কিনে অপব্যবহার করার যে প্রবণতা সাধারণ মানুষের মধ্যে ছিল, তা এই নিয়মের কারণে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই এই সংশোধনী দেশজুড়ে কার্যকর করা হয়েছে। কেন্দ্রের কড়া নির্দেশিকা মেনে এখন থেকে ভারতের প্রতিটি প্রান্তের ফার্মেসি ও ওষুধ বিক্রেতাদের সিরাপ এবং এই জাতীয় ফর্মুলেশন বিক্রির ক্ষেত্রে সংশোধিত নিয়মাবলী কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। নিয়মের অন্যথা হলে সংশ্লিষ্ট দোকানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পথও খোলা রাখছে প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *