ভবানীপুরে পরাজয় মেনে নিলেন না মমতা, শুভেন্দুর জয়কে চ্যালেঞ্জ করে ফের হাইকোর্টে ইলেকশন পিটিশন!

রাজ্যের বর্তমান নজিরবিহীন রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যে ফের সরাসরি আইনি লড়াইয়ের ময়দানে অবতীর্ণ হলেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দুপুর ১টা বেজে ৫০ মিনিট নাগাদ আচমকাই কলকাতা হাইকোর্টে এসে পৌঁছন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ, রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দোলা সেন। হাইকোর্টে প্রবেশ করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি ওথ কমিশনের (Oath Commission) দফতরে গিয়ে নিজের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
ভবানীপুরেও পরাজয় এবং শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ফের গণনায় কারচুপির অভিযোগ
২০২১ সালের ঐতিহাসিক বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে সামান্য ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় গণনায় ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলে তিনি কলকাতা হাইকোর্টে একটি ইলেকশন পিটিশন দাখিল করেছিলেন, যা আজও আদালতের বিচারাধীন। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর হাইভোল্টেজ কেন্দ্রে ফের মুখোমুখি হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু এবারও ওই কেন্দ্রে পরাজিত হন তৃণমূল নেত্রী। গতবারের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে এবারও গণনায় ব্যাপক কারচুপি ও অনিয়ম হওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টে ফের নতুন করে ইলেকশন পিটিশন দাখিল করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নজরে ঋতব্রতের বিরোধী দলনেতা পদ, আজই দ্বিতীয় দফার মেগা শুনানি
খোদ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর আজ হাইকোর্ট চত্বরে হাজিরা দেওয়ার পেছনে অন্য একটি বড় আইনি লড়াইয়ের সংযোগ দেখছে আইনজীবী মহলের একাংশ। রাজ্য বিধানসভার স্পিকার কর্তৃক বিদ্রোহী তৃণমূল নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘বিরোধী দলের নেতা’ হিসেবে তড়িঘড়ি স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে তৃণমূলের দায়ের করা মামলার আজ দ্বিতীয় দফার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শুনানি রয়েছে।
এই সমান্তরাল মামলার প্রধান দিকগুলি নিচে দেওয়া হলো:
- আদালতে চ্যালেঞ্জ: বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে যে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, সেই সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ অবৈধ দাবি করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন বর্ষীয়ান তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।
- বিধিলঙ্ঘনের অভিযোগ: শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মূল অভিযোগ, অধ্যক্ষের মাধ্যমে বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের এই সমগ্র প্রক্রিয়ায় সাংবিধানিক বিধি এবং বিধানসভার সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলী চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। তাই এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করা হোক।
- স্থগিতাদেশে অস্বীকৃতি: গত শুক্রবার এই মামলার প্রথম দফার শুনানিতে আদালত স্পিকারের সিদ্ধান্তের ওপর কোনও অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করতে অস্বীকার করেছিল।
“কোন নিয়মে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে এত তড়িঘড়ি স্বীকৃতি দেওয়া হলো? এই সমগ্র প্রক্রিয়ার পেছনে কোনও সুনির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি নেই।”
— কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রবীণ আইনজীবী ও তৃণমূল সাংসদ
আজ দুপুর ঠিক তিনটের সময় কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে এই মামলার দ্বিতীয় দফার শুনানি শুরু হতে চলেছে। আদালতে তৃণমূলের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় স্থগিতাদেশের দাবিতে জোরালো সওয়াল করলেও, এর তীব্র বিরোধিতা করেছেন রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধী দলনেতা পদের আইনি ভবিষ্যৎ আজ কোন দিকে ঘোরে, তার ঠিক আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাইকোর্টে আগমন রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।