তৃণমূলের আমলে ব্রাত্য আদিগঙ্গা! ‘নমামি গঙ্গে’র মাধ্যমে সংস্কারের কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

তৃণমূলের আমলে ব্রাত্য আদিগঙ্গা! ‘নমামি গঙ্গে’র মাধ্যমে সংস্কারের কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

কলকাতা পুরসভার তৃণমূল পরিচালিত পূর্বতন বোর্ডের বিরুদ্ধে আদিগঙ্গাকে চূড়ান্ত অবহেলার অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার কলকাতা পুরসভার সদর দপ্তরে প্রথমবার পা রেখেই তিনি আদিগঙ্গার বেহাল দশা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারের ‘নমামি গঙ্গে’র মতো বৃহৎ প্রকল্প থাকা সত্ত্বেও বিগত পুরবোর্ড এই ঐতিহ্যবাহী নদীর সংস্কারে কোনও বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেয়নি। গঙ্গার প্রতি এই বঞ্চনা মেনে নেওয়া যায় না জানিয়ে তিনি দ্রুত ‘নমামি গঙ্গে’ প্রকল্পের আওতায় আদিগঙ্গার আমূল সংস্কারের জোরালো আশ্বাস দিয়েছেন।

গতিহারা আদিগঙ্গার নেপথ্য কারণ

খিদিরপুরের দইঘাট থেকে শুরু হয়ে চেতলা, কালীঘাট, টালিগঞ্জ ও গড়িয়া হয়ে রাজপুর-সোনারপুর পর্যন্ত প্রায় ২২ কিলোমিটার বিস্তৃত এই আদিগঙ্গা। একসময় এই নদীতে নির্বিঘ্নে নৌকো চলাচল করলেও গত শতাব্দীর সাতের দশক থেকে কারখানার দূষিত বর্জ্য এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের জেরে নদীটি তার স্বাভাবিক নাব্যতা হারিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীর জলের গতি রুদ্ধ হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো কুঁদঘাট থেকে কবি সুভাষ পর্যন্ত প্রসারিত মেট্রো রেলের জোড়া লাইন ও তার বড় বড় পিলার। পাশাপাশি, তৃণমূল বোর্ডের আমলে ‘নমামি গঙ্গে’ প্রকল্পের বরাদ্দ আটকে দেওয়ার অভিযোগ তুলে কেন্দ্রের সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলায় নদী সংস্কারের কাজ কার্যত বিশ বাঁও জলে চলে যায়।

সংস্কারের উদ্যোগ ও সম্ভাব্য প্রভাব

মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরেই আদিগঙ্গাকে বাঁচাতে তৎপরতা শুরু করেছে কলকাতা পুরসভা। ‘স্বচ্ছ সে স্বাগত’ কর্মসূচির আওতায় দইঘাট থেকে গড়িয়া ঢালাই ব্রিজ পর্যন্ত আদিগঙ্গার ৪৮টি জরাজীর্ণ ঘাট পরিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কয়াল ঘাট, মুখার্জি ঘাট ও করুণাময়ী ঘাটের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘাটগুলি থেকে ভাসমান বর্জ্য অপসারণের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। এই বিপুল সংস্কার কাজ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে শহরের সামগ্রিক নিকাশি ব্যবস্থার প্রভূত উন্নতি হবে। একইসঙ্গে আদিগঙ্গা তার হৃত নাব্যতা ও পবিত্রতা ফিরে পেলে চেতলা, কালীঘাট বা বাঁশদ্রোণীর বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক স্বস্তি ফিরবে এবং তারা ফের দৈনন্দিন কাজে এই নদীর জল ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *