নিখোঁজ ১০ লাখ টাকার মাও কমান্ডার শকুন্তলা, আস্তানা কি এবার বাংলায়

ঝাড়খণ্ডের সারান্ডা জঙ্গলে যৌথ বাহিনীর তীব্র সাঁড়াশি অভিযানের মুখে পড়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন ১০ লাখ টাকা মাথার দামের কুখ্যাত মাও কমান্ডার শকুন্তলা মাহাতো। সিপিআই (মাওবাদী) সংগঠনের জোনাল কমিটির এই প্রভাবশালী নেত্রী তথা মাও বঙ্গ ব্রিগেডের সক্রিয় সদস্য স্কোয়াড ছাড়তেই তোলপাড় শুরু হয়েছে বাংলা-ঝাড়খণ্ড পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর অন্দরে। গোয়েন্দাদের ধারণা, অভিযানের মুখে কোণঠাসা হয়ে এই মাও নেত্রী হয়তো পশ্চিমবঙ্গে এসে আত্মগোপন করেছেন। ফলে সীমানা জুড়ে নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
ক্ষুধার জ্বালা থেকে বন্দুকের লড়াই
ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি থানার মেছুয়া গ্রামের বাসিন্দা শকুন্তলা মাহাতো মাওবাদী মহলে পরি, বর্ষা বা পুষ্পা নামে পরিচিত হলেও পরিবারের কাছে তিনি শুধুই ‘লুটুন’। মাত্র ১০ বছর বয়সে পেটের ক্ষুধা মেটাতে এবং গান-বাজনার আকর্ষণে তিনি তৎকালীন এমসিসি-র সাংস্কৃতিক শাখায় যোগ দিয়েছিলেন। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর আর হাই স্কুলের চৌকাঠ মাড়ানো হয়নি তাঁর। বাম আমলে সমাজ বদলের স্বপ্নে বিভোর হয়ে একসময় গান ছেড়ে হাতে তুলে নেন বন্দুক। পুলিশি তৎপরতা বাড়ায় একসময় তাঁকে ঝাড়খণ্ডের পরেশনাথ পাহাড়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে মাওবাদী নেতা অতুল মাহাতোর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। জঙ্গলমহলের লালগড় আন্দোলন থেকে শুরু করে ঝাড়খণ্ডের দলমা, ঘাটশিলা ও সারান্ডার দুর্ভেদ্য জঙ্গলে শীর্ষ মাওবাদী নেতাদের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে দীর্ঘ দুই দশক ধরে সাংগঠনিক কাজ পরিচালনা করেছেন তিনি।
পরিবারে চরম সংকট ও ঘরে ফেরার আকুতি
কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশ থেকে মাওবাদী দমনের যে লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে, তার পরেও মাও বঙ্গ ব্রিগেডের যে ৭ জন শীর্ষ কমান্ডার এখনো সক্রিয়, শকুন্তলা তাঁদের অন্যতম। বর্তমানে ঝাড়খণ্ড পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করে বাড়ির দেওয়ালে পোস্টার সাঁটিয়েছে এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। একদিকে পুলিশি চাপ, অন্যদিকে শকুন্তলার মা মেথিলা মাহাতো গত আট বছর ধরে ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে। অসুস্থ মা ও পরিবারের সদস্যরা এখন চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। মেজো বোন পূর্ণিমা মাহাতো হাত জোড় করে দিদিকে ফিরে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন, যাতে মৃত্যুর আগে মা তাঁর হারিয়ে যাওয়া মেয়েকে শেষবারের মতো চোখের দেখা দেখতে পারেন।