‘ভারতীয়দেরও প্রাণ গিয়েছে’, জি-৭ মঞ্চে ট্রাম্পের সামনেই কড়া জবাব মোদির!

ওমান উপকূলে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশের অভ্যন্তরে বিরোধী শিবিরের প্রবল সমালোচনার মুখে দাঁড়িয়ে জি-সেভেন শীর্ষ সম্মেলনের মতো বৃহৎ আন্তর্জাতিক মঞ্চকেই তিনি কড়া জবাব দেওয়ার জন্য বেছে নিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতেই তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, জলপথে বাণিজ্য এবং নাবিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
বিরোধীদের জবাব ও আমেরিকার উদ্দেশে বার্তা
দিন তিনেক আগে ওমান উপকূলে একটি বাণিজ্যতরীতে মার্কিন হামলায় প্রাণ হারান তিন ভারতীয় নাবিক। এই ঘটনায় আমেরিকার দুঃখপ্রকাশের বদলে উলটে ভারতকে শাসানো নিয়ে দেশের রাজনীতি উত্তাল হয়ে ওঠে। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছিলেন যে, আমেরিকা দাদাগিরি করছে এবং প্রধানমন্ত্রী নীরব রয়েছেন। কিন্তু জি-সেভেন বৈঠকে অন্যান্য বিশ্বনেতাদের সাক্ষী রেখে ট্রাম্পের সামনেই মোদি স্মরণ করিয়ে দেন যে এই হামলায় ভারতীয়দেরও প্রাণ গিয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি কেবল বিরোধীদের সমালোচনারই কড়া জবাব দিলেন না, বরং আমেরিকাকেও একটি শক্ত কূটনৈতিক বার্তা দিলেন।
বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি
আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে পারস্পরিক আস্থার অভাবকেই বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমস্যা বলে চিহ্নিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিস্থাপনের সাম্প্রতিক উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন। এই সংঘাতের জেরে বন্ধু দেশগুলোর জীবন ও সম্পদের বিপুল ক্ষতির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জলপথ বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ধাক্কা খেয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতিকে পুনরায় চাঙ্গা করতে জলপথের নিরাপত্তা এবং দেশগুলোর মধ্যে হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনাই যে এখন সবচেয়ে জরুরি, মোদির বক্তব্যে সেই বার্তাই স্পষ্ট হয়েছে।