বাংলায় বর্ষা এলেও বৃষ্টির আকাল, কবে নামবে স্বস্তির ধারা?

তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করছে পশ্চিমবঙ্গ-সহ গোটা দেশ। খাতায়-কলমে বর্ষা প্রবেশ করলেও বৃষ্টির দেখা নেই, ফলে চাঁদি ফাটা রোদে আমজনতার অস্বস্তি চরমে পৌঁছেছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, প্রযুক্তিগতভাবে মধ্য ও পূর্ব ভারতের কিছু অংশে বর্ষা এগিয়ে চললেও বৃষ্টি-সৃষ্টিকারী বায়ুমণ্ডলীয় ব্যবস্থাটি বর্তমানে অস্বাভাবিকভাবে দুর্বল হয়ে রয়েছে। এর ফলে বর্ষার বিস্তার ঘটলেও এখনই ভারী বর্ষণের কোনও সম্ভাবনা নেই।
বৃষ্টির ঘাটতি ও আবহাওয়ার কারণ
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৫ থেকে ২১ জুনের মধ্যে বর্ষার সক্রিয়তা তলানিতে থাকবে। এর প্রধান কারণ হল, বর্ষার বাতাস উত্তর দিকে অগ্রসর হলেও ব্যাপক বৃষ্টিপাতের জন্য প্রয়োজনীয় বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতি এই মুহূর্তে অত্যন্ত দুর্বল। ফলে দেশের বহু অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা আগামী দিনগুলোতে আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। আপাতত দেশজুড়ে ব্যাপক বর্ষণের পরিবর্তে মূলত স্থানীয়ভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষত কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুর মতো দক্ষিণের রাজ্যগুলিতে দমকা হাওয়া ও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ঝাড়খণ্ড বা ওড়িশায় এখনই গরম কমার কোনও লক্ষণ নেই।
কবে মিলবে ভারী বর্ষণের দেখা?
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর স্বস্তির খবর শুনিয়েছে আবহাওয়া পূর্বাভাস মডেলগুলি। আগামী ২৩ জুনের পর থেকে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হতে পারে। পূর্বাভাস অনুসারে, জুনের দ্বিতীয়ার্ধে বর্ষার ভালো প্রভাব দেখা যাবে। ২২ থেকে ২৮ জুনের মধ্যে দক্ষিণ ও পূর্ব ভারতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এই সময়েই পশ্চিমবঙ্গেও ঝেঁপে বর্ষার বৃষ্টি নামার সম্ভাবনা রয়েছে, যা জুনের শেষ এবং জুলাইয়ের প্রথম দিক পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। আপাতত সেই স্বস্তির ধারাবর্ষণের অপেক্ষাতেই দিন গুনছে রাজ্যবাসী।