ভালোবাসার ডিম যখন ক্ষোভের আঁশটে ভাষা, বঙ্গে বাড়ছে ডিম ছুড়ে প্রতিবাদের সংস্কৃতি!

ভালোবাসার ডিম যখন ক্ষোভের আঁশটে ভাষা, বঙ্গে বাড়ছে ডিম ছুড়ে প্রতিবাদের সংস্কৃতি!

বাঙালির খাদ্যতালিকায় ডিমের স্থান অতি উঁচুতে। মধ্যবিত্তের নিত্যদিনের পুষ্টি পূরণ থেকে শুরু করে স্কুলের মিড-ডে মিল, সবখানেই ডিমের অবাধ যাতায়াত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই পরম ভালোবাসার ও নির্ভরতার উপাদানটিই হয়ে উঠেছে ক্ষোভ ও ঘৃণাপ্রকাশের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। রাজনৈতিক বা সামাজিক স্তরে কাউকে অপমান করতে পচা ডিম ছুড়ে মারার প্রবণতা বঙ্গে এখন প্রায়শই চোখে পড়ছে, যা এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ইতিহাস ও বিবর্তনের ধারা

ডিম ছুড়ে অপমান করার এই সংস্কৃতি বাঙালির নিজস্ব নয়, বরং এর শিকড় জড়িয়ে আছে ইউরোপের ইতিহাসে। প্রায় পাঁচশত বছর আগে ব্রিটেনের রানি প্রথম এলিজাবেথের শাসনকালে লন্ডনের থিয়েটার পাড়া থেকে শুরু করে রাজনীতিতে পচা ডিম নিক্ষেপের ব্যবহার শুরু হয়। এমনকী বিখ্যাত নাট্যকার উইলিয়াম শেক্সপিয়রের নাটকেও রূপক হিসেবে পচা ডিমের উল্লেখ পাওয়া যায়। ভারতে এই ‘ডিম্বাস্ত্রের’ প্রথম প্রয়োগ ঘটেছিল সম্ভবত ১৯৭৮ সালে, যখন জরুরি অবস্থার প্রতিবাদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর দিকে ডিম ছুড়ে মারা হয়। সেই ধারা অনুসরণ করে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গেও এই সংস্কৃতি এক প্রকার সংক্রামক আকার ধারণ করেছে।

সামাজিক প্রভাব ও ক্ষণিকের দাদাগিরি

কাউকে শারীরিকভাবে বড় কোনো আঘাত বা রক্তপাত না করেও চরম অপদস্থ করার এক মনস্তাত্ত্বিক হাতিয়ার হয়ে উঠেছে এই ডিম নিক্ষেপ। এর মূল কারণ হলো, এটি কাপড়ে তরল ক্লেদ ও আঁশটে দুর্গন্ধ লেপে দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সামাজিকভাবে মুহূর্তের মধ্যে হেয় প্রতিপন্ন করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি আসলে এক ধরনের ক্ষণিক উল্লাস এবং ক্ষুদ্র মাপের সামাজিক তর্জন-গর্জন। এই ধরনের সস্তা দাদাগিরি সুস্থ গণতান্ত্রিক ও সামাজিক পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচারকে ক্রমশ কালিমালিপ্ত করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *