মাথার ওপর ১০ লাখের পুরস্কার, অস্ত্র ফেলে অবশেষে আত্মসমর্পণ কুখ্যাত মাওবাদী নেত্রী পুষ্পার

কলকাতায় রাজ্য পুলিশের সদর দফতরে এক সময়ের ত্রাস তথা মোস্ট ওয়ান্টেড মাওবাদী নেত্রী শকুন্তলা মাহাতো ওরফে পুষ্পা আত্মসমর্পণ করেছেন। একটি এসএলআর (SLR), ৪০ রাউন্ড কার্তুজ এবং ম্যাগাজিনসহ পুলিশের কাছে এসে তিনি অস্ত্র তুলে দেন। ঝাড়খণ্ড পুলিশের খাতায় তাঁর মাথার দাম ছিল ১০ লক্ষ টাকা। ২০০১ সালে মাওবাদী আন্দোলনে যোগ দেওয়া শকুন্তলা দীর্ঘ দুই দশক পর অবশেষে হিংসার পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অরণ্য থেকে আত্মসমর্পণের নেপথ্যে
বেলপাহাড়ির মেচুয়া গ্রামের বাসিন্দা শকুন্তলা মূলত ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা সীমান্ত সংলগ্ন সারান্ডা জঙ্গলে মাওবাদী স্কোয়াডের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন। ঝাড়গ্রাম এবং ঝাড়খণ্ডের একাধিক থানায় তাঁর বিরুদ্ধে বহু নাশকতামূলক ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের মামলা রয়েছে। ২০০৪ সালে এমসিসি ও জনযুদ্ধ গোষ্ঠী মিলে সিপিআই (মাওবাদী) গঠিত হওয়ার পর তিনি সংগঠনের প্রথম সারির নেত্রী হয়ে ওঠেন। ২০০৫ সালে মাওবাদী এরিয়া কমান্ডার অতুল মাহাতোর সাথে তাঁর বিয়ে হয়। দীর্ঘ সময় ধরে ফেরার থাকার পর ২০২৩ সালে ঝাড়খণ্ড পুলিশ তাঁর বাড়িতে আদালতে হাজিরার নোটিশও সেঁটে দিয়েছিল। কিন্তু চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি মাওবাদী কার্যকলাপ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যান এবং অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন।
বদলাচ্ছে পরিস্থিতি, মূল স্রোতে ফেরার ডাক
আত্মসমর্পণের পর শকুন্তলা স্পষ্ট জানান যে বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই সশস্ত্র আন্দোলনের আর কোনো প্রাসঙ্গিকতা নেই। রাজ্য সরকারের পুনর্বাসন নীতির ওপর ভরসা রেখেই তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সাথে জঙ্গলে থেকে যাওয়া তাঁর বাকি সতীর্থদের উদ্দেশেও তিনি অস্ত্র ছেড়ে ঘরে ফিরে এসে সংসার করার আহ্বান জানিয়েছেন।
মাওবাদী শিবিরে বড় ধাক্কা
বিশেষজ্ঞদের মতে, শীর্ষস্তরের মাওবাদী নেতাদের একের পর এক গ্রেফতার ও আত্মসমর্পণ জঙ্গলমহল এবং সংলগ্ন রাজ্যগুলোতে মাওবাদী নেটওয়ার্কের কোমর ভেঙে দিচ্ছে। গত মে মাসেও ঝাড়খণ্ডের প্রবীণ মাওবাদী নেত্রী শ্রদ্ধা বিশ্বাস ওরফে ‘বেলা’ কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন। এর পাশাপাশি হুগলির বাসিন্দা ও ঝাড়খণ্ডে সক্রিয় আরেক মাওবাদী মাধাই পাত্রও সম্প্রতি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। একের পর এক হেভিওয়েট নেতার এই পতন এবং আত্মসমর্পণ প্রমাণ করছে যে মাওবাদী মতাদর্শের ভিত এখন অনেকটাই নড়বড়ে এবং জঙ্গলমহলে মাওবাদীদের একচ্ছত্র আধিপত্যের দিন শেষের মুখে।