শওকতকে প্রেসিডেন্সি জেলে রাখায় সুরক্ষার অভাব, অন্য অভিযুক্তদের আশঙ্কায় বিস্ফোরক দাবি এনআইএ-র

শওকতকে প্রেসিডেন্সি জেলে রাখায় সুরক্ষার অভাব, অন্য অভিযুক্তদের আশঙ্কায় বিস্ফোরক দাবি এনআইএ-র

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে বোমা বিস্ফোরণ মামলায় প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লাকে ঘিরে ক্রমশ চড়ছে উত্তেজনার পারদ। তদন্তভার হাতে নেওয়ার ৮৭ দিনের মাথায় মঙ্গলবার কলকাতা নগর দায়রা আদালতে ৬৫ পাতার চার্জশিট পেশ করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। বিস্ফোরক আইনে দাখিল করা এই চার্জশিটে শওকত ছাড়াও নাম রয়েছে ধৃত আহিদুল ইসলাম মোল্লা ও রহমত আলি মোল্লার। শুনানিতে শওকতকে ‘অত্যন্ত প্রভাবশালী’ অ্যাখ্যা দিয়ে তাঁকে প্রেসিডেন্সি ছাড়া অন্য সংশোধনাগারে স্থানান্তরের আর্জি জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি। এনআইএ-র দাবি, ধৃত অন্য অভিযুক্তেরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। অন্যদিকে, শওকতের আইনজীবী এই দাবিকে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে পাল্টা সওয়াল করেছেন।

ভোটের আগে আতঙ্কের ছক ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ

গত মার্চ মাসে ভাঙড়ের দক্ষিণ বামুনিয়া গ্রামে হওয়া ওই বিস্ফোরণটি পরিকল্পনামাফিক ঘটানো হয়েছিল বলে আদালতে জানিয়েছে এনআইএ। তদন্তকারীদের দাবি, নির্বাচনের আগে এলাকায় ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে সেখানে বোমা বাঁধা হচ্ছিল। শওকত যাতে আইনি জটিলতায় ফেঁসে না যান, সেই কারণে সুপরিকল্পিতভাবে তাঁর নিজস্ব এলাকার বাইরে এই কাজ চালানো হচ্ছিল। এনআইএ আরও অভিযোগ করেছে যে, ঘটনার সময় বিধায়ক পদে থাকায় শওকতের ভয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা থানায় তাঁর নাম মুখ খোলার সাহস পাননি। এমনকি গ্রেফতারির সময় তিনি বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলেও তদন্তকারীরা দাবি করেছেন। আদালতে আনার পথে এদিন শওকতকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া ও স্লোগান দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

তদন্তে অসহযোগিতা ও আইনজীবীর পাল্টা প্রতিরোধ

আদালতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা স্পষ্ট জানায় যে, প্রভাবশালী শওকত মোল্লা তদন্তে একেবারেই সহযোগিতা করছেন না। এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে শওকতের আইনজীবী প্রশ্ন তোলেন, প্রথম দিকে এফআইআর করার সময় কেন শওকতের নাম যুক্ত করা হয়নি? তবে কি তখন এনআইএ নিজেই প্রভাবিত হয়েছিল? শওকতকে অন্য জেলে স্থানান্তরের আবেদনের প্রেক্ষিতে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এখন কি কেন্দ্রীয় সংস্থাই ঠিক করে দেবে আসামিকে কোন জেলে রাখা হবে? পাশাপাশি বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার দাবির সপক্ষেও প্রমাণ চান তিনি। ১৯ জুন পর্যন্ত শওকতের এনআইএ হেফাজতের মেয়াদ থাকলেও মঙ্গলবারই তাঁকে আদালতে এনে বিচারবিভাগীয় হেফাজতের আবেদন জানানো হয়। উভয় পক্ষের এই তীব্র বাদানুবাদের জেরে শেষ পর্যন্ত আদালতের শুনানি মুলতবি হয়ে যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *