৫০ কোটির টোপ আর প্রাইভেট জেটের প্রলোভন, উদ্ধব শিবিরের ভাঙন রুখতে দিল্লিতে জরুরি বৈঠক!

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে আবারও বড়সড় ভাঙনের কালো মেঘ। উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা (ইউবিটি) শিবিরে ফাটল ধরার তীব্র জল্পনার মাঝেই এবার সরাসরি ঘোড়া কেনাবেচার বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন উদ্ধব শিবিরের রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় রাউত। তাঁর দাবি, উদ্ধব শিবিরের সাংসদদের নিজেদের দলে টানতে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) বিপুল অঙ্কের টাকা ও বিলাসবহুল সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখাচ্ছে। অগ্রিম হিসেবে একেকজনকে ১৫ কোটি টাকা এবং দলবদলের মোট প্যাকেজ হিসেবে ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত দেওয়ার টোপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। টাকার পাশাপাশি সাংসদদের যাতায়াতের জন্য প্রাইভেট জেট বা চার্টার্ড বিমান পাঠানোর মতো চাঞ্চল্যকর দাবিও করেছেন তিনি।
টোপের রাজনীতি ও রাউতের বিস্ফোরক দাবি
একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে সঞ্জয় রাউত মহারাষ্ট্রের এই রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ‘মর্মান্তিক এবং জঘন্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, দলের দুই সাংসদকে নান্দেড় বিমানবন্দর থেকে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিশেষ ভাড়া করা বিমান পাঠানো হয়েছিল। দলত্যাগের জল্পনায় থাকা সাংসদদের তীব্র কটাক্ষ করে রাউত বলেন, একটা সময় যাঁদের রিকশায় চড়ার সামর্থ্য ছিল না, বালাসাহেব ঠাকরের নামের দৌলতেই আজ তাঁরা ব্যক্তিগত বিমানে ঘোরার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। তবে এই চরম সংকটের মধ্যেও রাউত দাবি করেছেন, উদ্ধব গোষ্ঠী এখনও ঐক্যবদ্ধ এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পূর্ণ সামর্থ্য তাঁদের রয়েছে। দলত্যাগী বিদ্রোহীরা পৃথক গোষ্ঠী গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত সাংসদ সংখ্যা জড়ো করতে পারবেন না বলেও তিনি মনে করেন।
নেপথ্যের কারণ ও ক্ষমতার অলিন্দে নতুন সমীকরণ
উদ্ধব শিবিরে এই ক্ষোভ ও ভাঙনের সূত্রপাত মূলত সোমবার দিল্লির একটি বৈঠককে কেন্দ্র করে। সেখানে উদ্ধব শিবিরের সাংসদ সঞ্জয় দেশমুখের সঙ্গে শিন্দে সেনার নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রতাপরাও যাদবের একটি গোপন বৈঠক হয়। এরপরই রবিবার উদ্ধব ঠাকরের বাসভবন ‘মাতশ্রী’তে আয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ দলীয় বৈঠকে সঞ্জয় দেশমুখসহ একাধিক সাংসদ অনুপস্থিত থাকেন। এই অনুপস্থিতিই মূলত দলবদলের জল্পনাকে উস্কে দেয়। সূত্রের খবর, সঞ্জয় দিনা পাটিল, সঞ্জয় দেশমুখ, নাগেশ পাটিল, ওমরাজে নিম্বলকর, ভৌসাহেব ওয়াকচৌর এবং সঞ্জয় যাদবসহ অন্তত ছয়জন সাংসদ বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্দে শিবিরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে এই বিদ্রোহী সাংসদেরা নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করতে পারেন বলেও রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন চলছে।
সম্ভাব্য প্রভাব ও উদ্ধব শিবিরের পাল্টা চাল
মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এই সম্ভাব্য দলবদল উদ্ধব ঠাকরের রাজনৈতিক অস্তিত্বের জন্য বড়সড় ধাক্কা হতে পারে। লোকসভায় নিজেদের শক্তি ধরে রাখতে এবং দলের ভাঙন রুখতে ইতিমধ্যেই পাল্টা আইনি ও রাজনৈতিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি শুরু করেছে উদ্ধব শিবির। দিল্লিতে দলের সংসদীয় কমিটির একটি জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। কড়া বার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে, যে সমস্ত সাংসদ এই বৈঠকে অনুপস্থিত থাকবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর দলীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি এই ছয় সাংসদ শেষ পর্যন্ত দলত্যাগ করেন, তবে তা কেবল উদ্ধব ঠাকরের ক্ষমতাকেই দুর্বল করবে না, বরং মহারাষ্ট্রের আগামী বিধানসভা নির্বাচনের সমীকরণও সম্পূর্ণ বদলে দেবে।