পাঠকহীনতার জের নাকি রাজনৈতিক পালা বদল? লাইব্রেরি থেকে এবার সরছে মমতার বই

পাঠকহীনতার জের নাকি রাজনৈতিক পালা বদল? লাইব্রেরি থেকে এবার সরছে মমতার বই

জলপাইগুড়ি জেলার সরকারি গ্রন্থাগারগুলি থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বই সরিয়ে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যের সমস্ত সরকারি স্কুল ও লাইব্রেরিতে মমতার লেখা বই রাখার যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, বর্তমান বিজেপি সরকারের গ্রন্থাগার মন্ত্রীর বার্তার পর তা প্রত্যাহারের তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। জলপাইগুড়ির মোট ৭৩টি গ্রন্থাগারে এই বই সরানোর কাজ শুরু হয়েছে, যা রাজ্যের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

বই সরানোর নেপথ্য কারণ ও মন্ত্রীর বার্তা

গ্রন্থাগার মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষের সাম্প্রতিক বিবৃতির পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীর অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে লাইব্রেরিগুলিতে জোরপূর্বক এই বইগুলি রাখতে বাধ্য করা হয়েছিল। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এসব বইয়ের পরিবর্তে এখন থেকে জাতীয়তাবাদী, দেশপ্রেম ও ইতিহাসভিত্তিক বই বেশি করে রাখা হবে এবং এই বিষয়ে দ্রুত একটি সরকারি নির্দেশিকাও জারি করা হবে। মন্ত্রীর মতে, রাজ্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের প্রকৃত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।

জনপ্রিয়তার অভাব ও সম্ভাব্য প্রভাব

গ্রন্থাগারিকদের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বাইরেও এই বইগুলির পাঠকপ্রিয়তা ছিল অত্যন্ত নগণ্য। জলপাইগুড়ির লাইব্রেরিয়ান সিদ্ধার্থ মোহন বাগচি জানিয়েছেন, বছরের পর বছর লাইব্রেরিতে পড়ে থাকলেও পাঠকরা সাধারণ এই বইগুলি ইস্যু করতেন না। কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত নির্দেশ না আসলেও মন্ত্রীর বার্তার প্রেক্ষিতেই আপাতত বইগুলি সরিয়ে রাখা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী দিনে রাজ্যের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে পূর্ববর্তী সরকারের নীতিগত প্রভাব যেমন কমবে, তেমনই লাইব্রেরিগুলির বইয়ের তালিকায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *