বর্ষার প্রবেশেও কাটছে না অস্বস্তি, এবার দক্ষিণবঙ্গে কম বৃষ্টির আশঙ্কায় বাড়ছে উদ্বেগ!

বর্ষার প্রবেশেও কাটছে না অস্বস্তি, এবার দক্ষিণবঙ্গে কম বৃষ্টির আশঙ্কায় বাড়ছে উদ্বেগ!

ক্যালেন্ডারের পাতায় আষাঢ় মাস শুরু হলেও দক্ষিণবঙ্গে এখনও দেখা মেলেনি কাঙ্ক্ষিত বর্ষার টানা বৃষ্টির। গত ১২ জুন রাজ্যে মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করলেও তার শক্তি অত্যন্ত কম। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ জেলায় বাতাস অতিরিক্ত আর্দ্র হওয়ায় তীব্র ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া বজায় রয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃষ্টি নামানোর মতো কোনো নিম্নচাপ বা ঘূর্ণাবর্ত তৈরি না হওয়ায় আগামী দুই থেকে তিন দিন এই পরিস্থিতি বজায় থাকবে। তবে ২০ জুনের পর থেকে আবহাওয়ার কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে এবং তাপমাত্রা ২-৩ ডিগ্রি কমতে পারে।

দুর্বল মৌসুমি বায়ু ও বজ্রপাতের জোড়া সতর্কতা

দক্ষিণবঙ্গে এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় সামগ্রিকভাবে কম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ের বেগ কম থাকলেও ঘন ঘন বজ্রপাত হওয়ার জোরালো আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়া জেলায় বজ্রপাতের বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আগামী শনিবার থেকে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা বাড়লে সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে।

উত্তরবঙ্গে অতি ভারী বৃষ্টি ও ধসের আশঙ্কা

দক্ষিণবঙ্গের খরা পরিস্থিতির বিপরীতে উত্তরবঙ্গে আবহাওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নিয়েছে। কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়ির মতো জেলাগুলোতে ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় আবহাওয়া দফতর ‘কমলা সতর্কতা’ জারি করেছে। দার্জিলিং ও কালিম্পং সহ পাহাড়ি অঞ্চলের পাঁচ জেলায় সপ্তাহজুড়ে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি রাস্তায় ধস নামার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সাথে পাহাড়ি নদ-নদীর জলস্তর বৃদ্ধি এবং নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার কারণে স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *