দল বাঁচানোর লড়াইয়ে বড় সুযোগ অভিষেকের! দিল্লিতে স্পিকারের তলবে কি চাপ বাড়বে বিদ্রোহীদের?

লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের নজিরবিহীন ভাঙনের মাঝেই দল বাঁচানোর লড়াইয়ে নতুন সুযোগ পেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের বিদ্রোহী সাংসদদের অবস্থান এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে কালীঘাট শিবিরের মতামত জানতে তাঁকে দিল্লিতে ডেকে পাঠালেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। আগামী ১৯ জুন, শুক্রবার স্পিকারের কার্যালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। স্পিকার আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দু’পক্ষের মতামত না শুনে তিনি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন না।
ভাঙনের নেপথ্য কারণ ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
সম্প্রতি একযোগে ২০ জন সাংসদ তৃণমূল ছাড়ার পর থেকেই জোড়াফুল শিবির চরম সংকটের মুখে পড়েছে। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী দলের প্রতীক ও সম্পত্তির দাবিতে অনড় রয়েছেন। তবে দলত্যাগ বিরোধী আইন থেকে বাঁচতে বিদ্রোহীরা নিজেদের আসল তৃণমূল বা আলাদা ব্লক হিসেবে দাবি না করে একটি অন্য দলে যুক্ত হওয়ার কৌশল গ্রহণ করেছেন। লোকসভায় তৃণমূল সাংসদদের সঙ্গে না বসে তাঁরা এনডিএ-কে সমর্থন করার কথা জানিয়েছেন। এই ভাঙন রুখতে আগেই স্পিকারকে চিঠি দিয়ে বিদ্রোহীদের স্বীকৃতি না দেওয়ার আর্জি জানিয়েছিলেন অভিষেক, কারণ তাঁর মতে এই স্বীকৃতি দেওয়া হলে তা সম্পূর্ণ সংবিধান বিরোধী হবে।
কী হতে পারে এর সম্ভাব্য প্রভাব?
গত সোমবার ইডির জিজ্ঞাসাবাদের কারণে স্বল্প সময়ের নোটিশে স্পিকারের তলবে সাড়া দিতে পারেননি ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তবে এবার সশরীরে উপস্থিত হয়ে নিজের পক্ষের জোরালো যুক্তি তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। আগামী ২০ জুলাই সংসদ অধিবেশন শুরুর আগেই এই বিদ্রোহী সাংসদদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। স্পিকারের কাছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যদি দলত্যাগী সাংসদদের পদ খারিজের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন, তবে বিদ্রোহীদের আইনি ও রাজনৈতিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।