ফলতাকাণ্ডে এবার রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা! জাহাঙ্গির অনুগামীদের কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের গ্রেফতারি এবং পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ করল প্রশাসন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘রাষ্ট্রদ্রোহের’ ধারায় মামলা রুজু করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার ফলতার ফতেপুর ফুটবল মাঠে আয়োজিত এক জনসভা থেকে এই নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ফলতার মাটিতে এখন থেকে কেবল আইনের শাসন চলবে এবং কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে তাঁকে রেয়াত করা হবে না।
রণক্ষেত্র ফলতা ও প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ
গত মঙ্গলবার ধৃত জাহাঙ্গির খানকে থানা থেকে জোরপূর্বক ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় ফলতা। একদল দুষ্কৃতী পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর চড়াও হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করে বাহিনী। জওয়ানদের তাড়া খেয়ে অনেক হামলাকারী নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালাতে বাধ্য হয়। এই নজিরবিহীন হিংসার পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জেলার পুলিশ সুপারকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন যাতে সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের দ্রুত চিহ্নিত করা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, একজন মাফিয়ার স্ত্রীর নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়েছিল এবং নতুন ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) মেনে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার পরিপন্থী কাজের জন্য এদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করতে হবে।
দুর্নীতির খতিয়ান ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই রাজনৈতিক উত্তেজনা ও হিংসার নেপথ্যে থাকা দীর্ঘদিনের দুর্নীতির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। বিগত সরকারের আমলে আমফান ঘূর্ণিঝড়ের ত্রাণ তহবিলের টাকা এবং ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেন তিনি। প্রায় আট হাজার ইউনিটের টাকা কীভাবে লুঠ হয়েছে, তার হিসাব নতুন সরকার কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নেবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার ফলে এলাকায় দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক গুন্ডামি ও লুটপাট বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের পথ সুগম হলো। এর ফলে ফলতা সহ গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিসরে একটি বড়সড় প্রভাব পড়তে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।