ফস্কেছিল আগের সুযোগ, দল বাঁচাতে স্পিকারের তলবে এবার দিল্লি ছুটছেন অভিষেক!

লোকসভায় ২০ জন সাংসদের একযোগে দলত্যাগের জেরে তৃণমূল কংগ্রেসের অস্তিত্ব এখন গভীর সংকটে। এই চরম ডামাডোলের মাঝেই দলের রাশ নিজেদের হাতে রাখতে মরিয়া শীর্ষ নেতৃত্ব। বিদ্রোহী সাংসদদের ভবিষ্যৎ এবং দলত্যাগের আইনি দিক নিয়ে আলোচনা করতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের দিল্লিতে তলব করেছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। আগামী ১৯ জুন সংসদ ভবনে স্পিকারের নিজস্ব কার্যালয়ে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।
তদন্তের জটে হাতছাড়া হয় প্রথম সুযোগ
এর আগে গত ১০ জুন স্পিকারের কাছে নিজেদের বক্তব্য জানানোর আর্জি নিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন অভিষেক। সেই প্রেক্ষিতে গত সোমবার স্পিকারের দফতর থেকে ইমেল মারফত তাঁকে তড়িঘড়ি ডেকে পাঠানো হয়। কিন্তু কলকাতায় সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি-র ম্যারাথন জেরার মুখে থাকায় সেই সময় তিনি ইমেলটি দেখার সুযোগ পাননি বা দিল্লিতে উপস্থিত হতে পারেননি। পরিস্থিতি সামাল দিতে তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ সেদিন দ্রুত স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে অভিষেকের অনুপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করেন। এরপরই স্পিকার ফের আগামী শুক্রবার তৃণমূলের বক্তব্য শোনার জন্য সময় নির্ধারণ করেছেন।
জোড়াফুল বাঁচাতে আইনি লড়াইয়ের কৌশল
স্পিকার ওম বিড়লা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করেছেন যে, দলত্যাগের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে তিনি একতরফা কোনও পদক্ষেপ করবেন না। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনেই তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান লক্ষ্য হলো, বিদ্রোহী গোষ্ঠী যাতে লোকসভায় আলাদা ব্লক বা ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে কোনওভাবেই আইনি স্বীকৃতি না পায় তা নিশ্চিত করা। তৃণমূল নেতৃত্বের যুক্তি, এমন স্বীকৃতি হবে সম্পূর্ণ সংবিধান ও দলত্যাগ বিরোধী আইনের পরিপন্থী। রাজনৈতিক মহলের মতে, শুক্রবারের এই বৈঠকটি তৃণমূলের জন্য ‘দল বাঁচানোর’ এক নির্ণায়ক সুযোগ। এই আলোচনার পরেই স্পষ্ট হবে লোকসভায় বিদ্রোহীদের ওপর আইনি চাপ কতটা বৃদ্ধি পাবে, নাকি দলের রাশ মমতা-অভিষেকের হাত থেকে পুরোপুরি ছিটকে যাবে।