বিশ্বযুদ্ধ ও পাক লড়াইয়ে সফল ইএফআর বাহিনীর হৃত গৌরব ফেরানোর ঐতিহাসিক উদ্যোগ শুভেন্দুর

দুই বিশ্বযুদ্ধ থেকে শুরু করে ১৯৬৫ ও ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ— দেশের প্রতিটি বড় লড়াইয়ে শৌর্য ও দক্ষতার অনন্য নজির রেখেছিল ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ারライスলস (ইএফআর)। কিন্তু গৌরবময় অতীত থাকা সত্ত্বেও বিগত বছরগুলোতে এই ঐতিহ্যবাহী বাহিনীটি চরম অবহেলা ও উপেক্ষার শিকার হয়েছে। বাম আমলে মূলত মাওবাদী দমনে ব্যবহার হওয়া এই বাহিনীকে তৃণমূল জমানায় ক্রমশ কোণঠাসা ও পঙ্গু করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। অবশেষে রাজ্য পুলিশের এই ধুঁকতে থাকা উপেক্ষিত শাখার হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার এবং একে পুনরুজ্জীবিত করার বড় ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
২০১০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি শিলদা ক্যাম্পে ভয়াবহ মাওবাদী হামলায় ২৪ জন জওয়ানের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ইএফআর বাহিনীকে সাংগঠনিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল করে দেয়। এরপর থেকে সময়ের সাথে সাথে বাহিনীটির আধুনিকীকরণ বা পুনর্গঠনে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। মূলত গোর্খা সম্প্রদায়ের বীরত্বকে কেন্দ্র করে ইস্ট ইন্ডিয়া কো ম্পা নির আমলে গড়ে ওঠা এই বাহিনীটি বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একটি ক্ষুদ্র ও নিষ্ক্রিয় অংশে পরিণত হয়েছে। যথাযথ তদারকি ও সদিচ্ছার অভাবে কর্মসংস্থান সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি এর গৌরবময় ইতিহাসও প্রায় বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যেতে বসেছিল।
ঐতিহাসিক বাহিনীর পুনরুজ্জীবনে নতুন রূপরেখা দার্জিলিং ও কার্শিয়ংয়ের জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ঐতিহাসিক বাহিনীকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইএফআর-এ নতুন করে ১০০০ যুবক-যুবতীকে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে। ডবল ইঞ্জিন সরকারের এই বিশেষ উদ্যোগে পাহাড়ের গোর্খা যুবকদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে। সামাজিক ভারসাম্য ও নারী ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে এই নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ পদ নারীদের জন্য সংরক্ষিত রাখার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
সীমান্ত নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় সম্ভাব্য প্রভাব ইএফআর বাহিনীকে পুনর্গঠনের এই সিদ্ধান্তের ফলে কেবল পাহাড়ে কর্মসংস্থানের সুযোগই তৈরি হবে না, বরং রাজ্যের কৌশলগত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, পুনরুজ্জীবিত করার পর ইএফআর বাহিনীকে বাংলাদেশ সীমান্তে মোতায়েন করা হতে পারে, যা সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ের জনপ্রতিনিধিরা এই বাহিনীর ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসলেও পূর্ববর্তী সরকারের আমলে তাতে সাড়া মেলেনি। বর্তমান সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ একদিকে যেমন গোর্খাদের ঐতিহাসিক অবদানকে সম্মানিত করবে, অন্যদিকে রাজ্যের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নতুন শক্তির সঞ্চার করবে।