১৭৭ দেশের সমর্থনে যেভাবে বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিল ২১ জুনের আন্তর্জাতিক যোগদিবস

১৭৭ দেশের সমর্থনে যেভাবে বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিল ২১ জুনের আন্তর্জাতিক যোগদিবস

শরীর সচল রাখা এবং মানসিক স্ফূর্তি ধরে রাখার ক্ষেত্রে ভারতের প্রাচীন ঐতিহ্য যোগব্যায়ামের জুড়ি মেলা ভার। আজ থেকে প্রায় ১৫ হাজার বছর আগে হিমালয়ের বুকে এই প্রাচীন জীবনপদ্ধতির চর্চা শুরু হয়েছিল বলে বিশ্বাস করা হয়। কোনো প্রকার বাড়তি উপকরণ ছাড়াই ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে করা সম্ভব বলে যুগে যুগে এর গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। আধুনিক বিশ্বে ব্যস্ত জীবনযাত্রার সাথে তাল মেলাতে এবং শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা অর্জনে এই প্রাচীন পদ্ধতি এখন বিশ্বজুড়ে এক দারুণ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

জাতিসংঘের স্বীকৃতি ও বিশ্ব রেকর্ড

২০১৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রথম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি যোগব্যায়ামকে ভারতের প্রাচীন ঐতিহ্যের এক অমূল্য উপহার হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। এই যুগান্তকারী প্রস্তাবে বিশ্বের ১৭৭টি দেশ তাৎক্ষণিকভাবে সমর্থন জানায়, যা জাতিসংঘের ইতিহাসে অন্যতম সর্বাধিক সমর্থিত প্রস্তাবের রেকর্ড গড়ে। পরবর্তীতে, একই বছরের ১১ ডিসেম্বর জাতিসংঘ প্রতি বছরের ২১ জুনকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে। ২০১৫ সালের ২১ জুন নয়াদিল্লির রাজপথে প্রথম যোগ দিবস উদযাপিত হয়, যেখানে ৩৫ হাজারেরও বেশি মানুষ এবং ৮৪টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নিয়ে দুটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড তৈরি করেন।

২১ জুন তারিখটি বেছে নেওয়ার নেপথ্য কারণ

আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের জন্য ২১ জুন তারিখটি বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে একটি গভীর ভৌগোলিক ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য। এই দিনটি উত্তর গোলার্ধে বছরের সবচেয়ে দীর্ঘতম দিন, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘গ্রীষ্মকালীন অয়ন’ বলা হয়। বছরের এই নির্দিষ্ট দিনে সূর্যের আলো পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে থাকে। ভারতীয় আধ্যাত্মিক বিশ্বাস অনুযায়ী, এই বিশেষ সময়ের পর থেকেই দক্ষিণায়ন শুরু হয়। আর দক্ষিণায়নের এই কালখণ্ডকে আত্মবিশ্লেষণ, সাধনা, সুস্থতা ও আধ্যাত্মিক চর্চার জন্য অত্যন্ত শুভ এবং ফলদায়ক সময় বলে মনে করা হয়।

২০২৬ সালের লক্ষ্য ও সম্ভাব্য প্রভাব

যোগ দিবসের মূল লক্ষ্য হলো—যোগব্যায়ামের বহুমুখী উপকারিতা সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে সচেতন করা এবং শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার লক্ষ্যে মানুষকে নিয়মিত যোগাভ্যাসে উৎসাহিত করা। ২০২৬ সালের আসন্ন আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল প্রতিপাদ্য বা থিম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘যোগা ফর হেলদি এজিং’। বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক ও মানসিক জটিলতা এড়াতে এবং সুস্থ প্রবীণ জীবন নিশ্চিত করতে সময় থাকতেই যেন মানুষ যোগব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তোলে, সেই অনুপ্রেরণা জোগানোই এবারের মূল উদ্দেশ্য। বিশ্বজুড়ে এই সচেতনতা ছড়িয়ে পড়ার ফলে চিকিৎসানির্ভরতা হ্রাস পাবে এবং প্রবীণ প্রজন্মের দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এটি অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *