ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনায় মেতেছে বিশ্ব, রাত জাগার ক্ষতিকর প্রভাব এড়াতে চিকিৎসকদের জরুরি পরামর্শ!

১১ জুন মেক্সিকো সিটির অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে প্রথম বল গড়াতেই বিশ্বজুড়ে চড়েছে ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তেজনার পারদ। আমেরিকা, কানাডা আর মেক্সিকোর যৌথ মঞ্চে এবারই প্রথম ৪৮টি দেশের মেগা লড়াইয়ে মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলা এই দীর্ঘ ফুটবল-জ্বরের মাঝেই মাঝরাতে টিভির পর্দায় চোখ রাখছেন কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী। তবে প্রিয় দলের জয়ের প্রার্থনায় রাত জাগার এই অভ্যাস শরীরের জন্য চরম ঝুঁকি ডেকে আনছে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকেরা।
বিপর্যস্ত ঘুমের ঘড়ি ও হৃদযন্ত্রের ঝুঁকি
মাঝরাতে খেলা দেখার কারণে মানবদেহের নিজস্ব সার্কাডিয়ান রিদম বা ঘুমের স্বাভাবিক চক্র মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, পর্যাপ্ত ‘রেম স্লিপ’ বা গভীর ঘুম না হলে শরীর ও মন দুই-ই ক্লান্ত হয়ে পড়ে, যার ফলে অনিদ্রা, খিটখিটে মেজাজ এবং কর্মক্ষেত্রে মনোযোগের ঘাটতি দেখা দেয়। এর চেয়েও বড় বিপদ ঘটছে হৃদযন্ত্রের। খেলা দেখার চরম উত্তেজনা এবং বিনিদ্র রজনী কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। এর ফলে রক্তচাপের আচমকা ওঠানামা দেখা দিচ্ছে, যা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ক্ষেত্রে কয়েক গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘ দিন এই অনিয়ম চললে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং ক্রনিক হার্টের অসুখের মতো প্রাণঘাতী জটিলতা তৈরি হতে পারে।
সুস্থ থাকার চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন
ফুটবলের আনন্দ উপভোগ করার পাশাপাশি শরীরকে সুস্থ ও ঝুঁকিমুক্ত রাখতে কিছু জরুরি নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
- লঘু আহার: রাতের খাবার হতে হবে একেবারেই হালকা এবং তা মাঝরাতের অনেক আগেই সেরে ফেলা উচিত।
- পর্যাপ্ত জলপান: রাত জাগার ক্লান্তি দূর করতে এবং শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে নিয়মিত বিরতিতে পর্যাপ্ত জল খেতে হবে।
- ক্যাফেইন বর্জন: খেলা দেখার শক্তি ধরে রাখতে গভীর রাতে অতিরিক্ত চা, কফি বা অ্যালকোহল খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ এগুলো শরীরের ক্ষতি বাড়ায়।
- ঘুমের ঘাটতি পূরণ: রাতের ঘুমের কোটা কম হলে, দিনের অন্য কোনো সময়ে ঘুমিয়ে সেই প্রয়োজনীয় ঘাটতি অবশ্যই পুষিয়ে নিতে হবে।