গরমে হঠাৎ প্রেশার ফল করছে! বিপদ এড়াতে চিকিৎসকের পরামর্শ জেনে নিন

তীব্র দাবদাহ ও চরম আর্দ্রতায় হাঁসফাঁস করছে জনজীবন। এই অস্বস্তিকর আবহাওয়ায় অনেকেই লো ব্লাড প্রেশার বা হাইপোটেনশনের সমস্যায় ভুগছেন। রক্তচাপ হঠাৎ ৯০/৬০ এমএমএইচজি-এর নীচে নেমে গেলে তাকে লো ব্লাড প্রেশার বলা হয়। চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানের এই চরম গরমে সাধারণ মানুষের মধ্যে রক্তচাপ কমে যাওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
গরমে রক্তচাপ কমার কারণ ও প্রভাব
অতিরিক্ত গরমে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখতে প্রচুর ঘাম হয়, যার ফলে শরীর থেকে জলের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ বেরিয়ে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে রক্তচাপের ওপর। ডিহাইড্রেশন বা শরীরে জলের ঘাটতির কারণে দেহে রক্তের পরিমাণ কমে যায় এবং রক্তচাপ আকস্মিকভাবে হ্রাস পায়। চিকিৎসক উৎসব দাসের মতে, যাঁরা নিয়মিত ডাইইউরেটিক্স জাতীয় ওষুধ খান, এই গরমে তাঁদের ‘সামার সিনকোপ সিনড্রোম’ বা রক্তচাপ কমে যাওয়ার ঝুঁকি আরও বেশি থাকে। এর প্রভাবে মাথা ঝিমঝিম করা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট, চোখে ঝাপসা দেখা, বমি ভাব এবং শুয়ে থেকে উঠতে গেলে মাথা ঘুরে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
তাৎক্ষণিক করণীয় ও প্রতিরোধ
এই চরম পরিস্থিতিতে সুস্থ থাকতে শরীরে জলের ঘাটতি মেটানোই হলো প্রাথমিক ও প্রধান কাজ। প্রতিদিন অন্তত ৩ থেকে ৪ লিটার জল পান করা অত্যাবশ্যক। সাধারণ জলের পাশাপাশি নুন-চিনির জল, ওআরএস বা লেবুর জল পান করলে দ্রুত শারীরিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, এই সময়ে ভারী খাবারের বদলে হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়া উচিত এবং একবারে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। একান্ত প্রয়োজন না থাকলে কড়া রোদে বাইরে বেরোনো এড়িয়ে চলা এবং পর্যাপ্ত পানীয় পানের মাধ্যমেই এই শারীরিক বিপদ থেকে সুরক্ষিত থাকা সম্ভব।