যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে ইরান-আমেরিকা শান্তিচুক্তি, অবশেষে খুলছে হরমুজ প্রণালী!

টানা সাড়ে তিন মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে পশ্চিম এশিয়ায় স্বস্তির সুবাতাস। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বুধবার একটি ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করল ইরান ও আমেরিকা। এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ তথা ‘তৈল ধমনী’ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে যাওয়ার পথ প্রশস্ত হল।
ডিজিটাল মাধ্যমেই মিলল রফাসূত্র
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ভার্চুয়াল মাধ্যমেই এই সমঝোতাপত্রে সই করেছেন। জানা গিয়েছে, জি-৭ সম্মেলন শেষে প্যারিসে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠকের ফাঁকেই ট্রাম্প এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। অন্যদিকে, ইরানের বিদেশ মন্ত্রকও চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তৈরি হওয়া এই খসড়ায় দুই দেশই সম্মতি জানিয়েছে। আগামী ১৯ জুন জেনেভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি স্বাক্ষরের কথা থাকলেও, ডিজিটাল স্বাক্ষরের পর সেই পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল হতে পারে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
চুক্তির শর্ত ও সম্ভাব্য প্রভাব
দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ চলার কারণে হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলির অর্থনীতিতে বড়সড় ধাক্কা লাগছিল। ১৪ দফার এই নতুন চুক্তির ফলে সেই অর্থনৈতিক সংকট কাটতে চলেছে। চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী থেকে অবরোধ তুলে নেওয়া হবে এবং লেবানন-সহ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি বজায় থাকবে। এছাড়াও, ইরানের বাজেয়াপ্ত ২৪ মিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়া, ধাপে ধাপে বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ওই অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা উপস্থিতি কমানোর কথা বলা হয়েছে। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যদিও বর্তমানে মজুত থাকা ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই চুক্তি সফলভাবে কার্যকর হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে দ্রুত স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।