‘পরিবারের কাছেই নিরাপদ নন’, মমতাকে নিয়ে কী ইঙ্গিত দিলেন অগ্নিমিত্রা?

‘পরিবারের কাছেই নিরাপদ নন’, মমতাকে নিয়ে কী ইঙ্গিত দিলেন অগ্নিমিত্রা?

তৃণমূল নেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মী (পিএসও) বদলকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গেছে। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে মমতার নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুরনো পিএসও-দের বুধবার রাতে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন ৪-৫ জন নিরাপত্তা কর্মীকে পাঠানো হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা তীব্র আকার ধারণ করেছে।

নিরাপত্তা বিতর্ক ও অগ্নিমিত্রার বিস্ফোরক দাবি

এই টানাপড়েনের মাঝেই নতুন বিতর্ক উস্কে দিয়েছেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। মমতার নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি দাবি করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নিজের পরিবারের কাছেই নিরাপদ নন। বাইরের মানুষের চেয়ে পরিবারের লোকেদের থেকেই তাঁর সবচেয়ে বেশি ভয়ের কারণ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। অতীতে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন প্রসঙ্গের দিকে ইঙ্গিত করে মন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, যিনি নিজের পরিবারের কাছেই সুরক্ষিত নন, তাঁকে কে বাঁচাবে?

একইসঙ্গে অগ্নিমিত্রা পাল অভিযোগ করেন, বিগত ১৫ বছর ধরে বিশাল পুলিশি ব্যারিকেড ও কনভয়ের মাধ্যমে নিজেকে সুরক্ষিত রেখে বাংলার সাধারণ মানুষকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। এখন নিরাপত্তা না নেওয়ার যে মনোভাব তিনি দেখাচ্ছেন, তা কেবলই রাজনৈতিক নাটক এবং বাংলার মানুষই এর চূড়ান্ত বিচার করবে।

প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক তৎপরতা

তৃণমূল সূত্রে জানা গেছে, সম্পূর্ণ অপরিচিত ব্যক্তিদের হঠাৎ নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে পাঠানোয় সুরক্ষার স্বার্থেই তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দলের প্রবীণ নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন স্পষ্ট জানিয়েছেন, নতুন পাঠানো পিএসও-দের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চেনেন না, আর সেই কারণেই তাঁদের গ্রহণ করা হয়নি।

এই নিরাপত্তা সংকট ও পুরনো টিমকে ফিরিয়ে আনার দাবিতে মমতাপন্থী বিধায়করাও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং পুরনো নিরাপত্তা টিমকে পুনর্বহালের দাবিতে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন মমতাপন্থী পাঁচ বিধায়ক। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র ও কুণাল ঘোষের মতো হেভিওয়েট নেতারা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন শীর্ষস্তরের নেত্রীর দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত নিরাপত্তা বলয় হঠাৎ ভেঙে দেওয়ার এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত রাজ্যে নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতের জন্ম দিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *