আইনজীবীকে জেরা করতে চায় পুলিশ! সই জাল কাণ্ডে সিআইডির ফোনে ক্ষুব্ধ কল্যাণ

রাজ্য বিধানসভার বহুচর্চিত সই জাল কাণ্ডে এবার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডির নজরে তৃণমূল সাংসদ তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সিআইডির এক আধিকারিক তাঁকে ফোনে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চাইলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে একজন আইনজীবীকে পুলিশ কীভাবে জেরা করতে পারে, তা নিয়ে ইতিমধ্যে জোর চর্চা শুরু হয়েছে আইনি ও রাজনৈতিক মহলে।
বার অ্যাসোসিয়েশনে চিঠি ও কল্যাণের ক্ষোভ
এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। চিঠিতে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিধানসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের দায়ের করা একটি মামলায় তিনি আইনজীবী হিসেবে সওয়াল করছেন। গত কয়েকদিন ধরে হাইকোর্টে এই মামলার শুনানিও চলছে। কল্যাণের অভিযোগ, যিনি আদালতে একটি ফৌজদারি মামলায় মক্কেলের পক্ষে আইনি লড়াই করছেন, তাঁকেই সেই মামলার তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফোন করা চূড়ান্ত বিস্ময়কর। পুলিশের এই পদক্ষেপের আইনি বৈধতা নিয়ে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন।
মামলার প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিধানসভার বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতিকে চ্যালেঞ্জ করে হওয়া এই মামলায় নথিতে থাকা কয়েকজন বিধায়কের সই জাল করার অভিযোগ ওঠে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহার অভিযোগের ভিত্তিতে হেয়ার স্ট্রিট থানায় দায়ের হওয়া এফআইআরের তদন্তভার বর্তমানে সিআইডির হাতে। এই মামলায় এর আগে তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক এবং সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা। তবে এবার খোদ মামলাকারীর আইনজীবীকে জিজ্ঞাসাবাদের উদ্যোগ নেওয়ায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, আইনজীবী-মক্কেলের আইনি সুরক্ষার অধিকারের জায়গা থেকে পুলিশের এই পদক্ষেপ আগামী দিনে আইনি জটিলতা আরও বাড়াতে পারে এবং প্রশাসনিক স্তরেও নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।